Shehbaz Sharif: 'ভিক্ষা করতে যাই, লজ্জায় মাথা নত হয়', খুলে-আম স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

Published : Jan 31, 2026, 01:01 PM IST
Pakistan Prime Minister Shehbaz Sharif

সংক্ষিপ্ত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে তাঁকে এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আর্থিক সাহায্য চাইতে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়েছে। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে তাঁকে এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আর্থিক সাহায্য চাইতে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় এই বিরল স্বীকারোক্তি আসে। দেশের অর্থনীতির কারণে তাঁর সরকারকে যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সে সম্পর্কে কথা বলেন শরিফ। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থার উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে শরিফ বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি হল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের বন্ধু এবং দেশগুলির ঋণও এর মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আপনি জানেন যে যে ঋণ নিতে যায়, তার মাথা নত হয়ে যায়।' শেহবাজের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে তাঁকে এবং আসিম মুনিরকে কতটা লজ্জাজনকভাবে সাহায্য চাইতে হয়েছে।

কী বলেছেন শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং আমি যখন বিশ্বজুড়ে ভিক্ষা করতে ঘুরে বেড়াই, তখন আমরা লজ্জিত হই। ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মসম্মানের উপর একটি বিশাল বোঝা। লজ্জায় আমাদের মাথা নত হয়ে যায়। তারা আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু চায়, আর আমরা না বলতে পারি না।' শরিফ খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তান একটি "হাইব্রিড শাসন" দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সেনাবাহিনী দেশ শাসনে মুখ্য় ভূমিকা পালন করছে।

শরিফ আরও বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল করার কৃতিত্ব মুনির এবং সেনাবাহিনীর। তিনি পেট্রোল চোরাচালান মোকাবিলা, চিনি শিল্পকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্ সেনার একশো শতাংশ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য আবারও পাকিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে ভারী ঋণের বোঝা, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ বেকারত্ব।

ঋণ পেতে ভিক্ষা

শরিফ এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করেছেন, যখন কঠোর নীতি প্রয়োগের পর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পাকিস্তান সরকার ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে ভিক্ষে চেয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি আইএমএফ থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে। এই তহবিল পাকিস্তানকে ঋণ পরিশোধ করতে এবং তার বৈদেশিক রিজার্ভ তৈরি করতে সহায়তা করেছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা রেকর্ড। তবে, এই কর্মসূচির জন্য পাকিস্তানকে একটি কঠোর মুদ্রা নীতি বজায় রাখতে হবে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক এই সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে তার মূল সুদের হার ১০.৫% এ স্থিতিশীল রেখেছে। কারণ জুন পর্যন্ত জিডিপি ৩.৭৫%-৪.৭৫% বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গরিবি বাড়ছ পাকিস্তানে

সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫% দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, যা ২০১৮ সালে ২১.৯% ছিল। চরম দারিদ্র্য বেড়ে ১৬.৫% হয়েছে। বেকারত্বের হার প্রায় ৭.১% এ পৌঁছেছে, যার ফলে আট মিলিয়নেরও বেশি নাগরিক বেকার হয়ে পড়েছেন। রফতানি এখনও টেক্সটাইলের উপরে নির্ভরশীল। অন্যদিকে সফটওয়্যার, কৃষি এবং পশুপালনের মতো খাতে বৃদ্ধি নানা সমস্যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

পরিচারিকাকে যৌন হেনস্থা, কাঠগড়ায় পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার আবদুল কাদিরের ছেলে
বিয়ে বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলার অভিযোগ, পাকিস্তানে নিহত অন্তত ৭ জন, জখম ২৫