
আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নবনেথেম ‘নভি’ পিল্লাই। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নভি পিল্লাই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে, ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারপতি হন। পরে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নভি পিল্লাই। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা নেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতিও ছিলেন তিনি। বর্তমানে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলা মামলায় অ্যাড হক বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নভি পিল্লাইয়ের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা। রুয়ান্ডার গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় ধর্ষণ ও যৌন হিংসাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা এবং সংঘাতের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষ স্বীকৃতির দাবি রাখে।
নোবেল কমিটির মতে, নভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনেতাদেরও আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে—এই নীতির উপর তিনি বরাবর জোর দিয়েছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের সময়েও ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে কমিটি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় শুধু কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হল।