Bhoot Chaturdashi 2026: ভূত চতুর্দশীতে আলোর উৎসব দিপালী, সেজে উঠছে বরিশাল মহাশ্মশান

Published : Nov 06, 2026, 12:13 AM IST
Bhoot Chaturdashi 2026

সংক্ষিপ্ত

Barisal Mahashashan: বাংলাদেশের (Bangladesh) বরিশাল শহরের কাউনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত বরিশাল মহাশ্মশান ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান। প্রায় ২০০ বছর আগে এই শ্মশান প্রতিষ্ঠা হয়। এই শ্মশানে কালী মন্দির আছে। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর (Bhoot Chaturdashi 2026) রাতে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় বরিশাল মহাশ্মশানে দিপালী উৎসব পালন করেন।

DID YOU KNOW ?
সবচেয়ে বড় শ্মশান
ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান বাংলাদেশের বরিশাল জেলার কাউনিয়া অঞ্চলে। এই মহাশ্মশানে এখনও শবদেহ দাহ করা হয়।

Kali Puja 2026: কমল সেনগুপ্ত, বরিশাল: বাংলাদেশের (Bangladesh) বরিশাল (Barisal) জেলা সদরের কাউনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত মহাশ্মশানে শুরু হয়ে গিয়েছে দিপালী উৎসবের প্রস্তুতি। শনিবার ভূত চতুর্দশীর (Bhoot Chaturdashi 2026) রাতে বরিশাল মহাশ্মশানে হতে চলেছে আলোর উৎসব শ্মশান দিপালী। বরিশাল মহাশ্মশান ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান। প্রায় দুই শতক পুরনো এই শ্মশানে ঢোকার মুখেই আছে শ্মশানকালী মন্দির। এছাড়া সারা শ্মশানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রয়াত প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছোট ছোট সমাধি মন্দির তৈরি করে রেখেছেন। এখানেই শনিবার রাতে হতে চলেছে দিপালী উৎসব। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য কোনও শ্মশানে এভাবে আলোর উৎসব হয় না। একমাত্র বরিশাল মহাশ্মশানেই হয় এই উৎসব।

ভূত চতুর্দশীর রাতে প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মরণ

বরিশাল মহাশ্মশানে ৭০ হাজারেরও বেশি সমাধি মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি পাকা সমাধি। নানা নকশায়, নানা আকৃতিতে রয়েছে সমাধি মন্দির। প্রায় ১০ হাজার কাঁচা মঠ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮০০ এমন মঠ রয়েছে, যাদের কোনও স্বজন নেই। এর মধ্যে শতাধিক বছরের পুরনো মঠও রয়েছে। ১৯২৭ সাল থেকে বরিশাল মহাশ্মশানে পালিত হয়ে আসছে দিপালী উৎসব। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে পূর্বপুরুষের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে সমবেত হন। হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বরিশাল মহাশ্মশান। সেদিন এখানে মৃত্যু যেন তার চিরচেনা বিষণ্ণতার আবরণ সরিয়ে দাঁড়ায় এক অপার্থিব আলোকমালার মাঝে। গোধূলির শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যেতেই মোমবাতি আর প্রদীপের শিখায় জেগে ওঠে সারা মহাশ্মশান। সমাধি থেকে সমাধিতে ছড়িয়ে পড়ে আলোর মায়াবী দ্যুতি। চারপাশ যেন এক অদ্ভুত আলোকসাগর। ধূপের ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে মিশে যায় সন্ধ্যার আকাশে। মনে হয়, এ বুঝি মৃত্যুর কোনও আয়োজন নয়, এ যেন ভালোবাসা, স্মৃতি আর ভক্তির এক অনন্য মহোৎসব! বড় বড় সমাধিতে নানা বর্ণের টুনি লাইট। মনে করিয়ে দেয়, আলোয় আলো আকাশ, আকাশ তারায় ভরা। সে এক অবিস্মরণীয় আলোর উৎসব। প্রত্যেক সমাধিতে প্রয়াতর ছবি। ছবির সামনে তার প্রিয় খাবার। জ্বলছে মোমবাতি আর প্রদীপ, মুঠো মুঠো জ্বলন্ত ধূপকাঠির ঘূর্ণায়মান ধোঁয়া। আহা! কি মোহনীয় পরিবেশ। মনে বাজে নজরুলের শ্যামা সঙ্গীত, ‘অন্তরলোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ-সুবাসে, ওরে মা-র হাসি মুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে’। কোথাও চলছে ধর্মগ্রন্থ পাঠ, কোথাও নিচু গলায় কীর্তন, সবাই নীরবে দাঁড়িয়ে স্বজনের সমাধির সামনে। কোন কোনে চোখের জল মুছছে এক অকাল বিধবা। পাশে দাঁড়িয়ে সদ্য শৈশব ছোঁয়া সন্তান, ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে। মন ভরে যায় শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে। মহাশ্মশানের প্রধান ফটকের ডান দিকে শ্মশানকালী মন্দির। চলবে পূজার আয়োজন। উলুধ্বনির মাঙ্গলিক সুরে মুখরিত হবে মন্দির প্রাঙ্গন।

শ্মশান দিপালী উৎসবের প্রস্তুতি

বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি অসীম কুমার দাস মুরলী ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত জানিয়েছেন, 'এবারের শ্মশান দিপালী ৭ নভেম্বর, বাংলা ২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। তিথি থাকবে সারারাত।' প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এই মহাশ্মশানে অনেক মহান মানুষ শেষ ঠিকানায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এখানে ঘুমিয়ে আছেন নারী আন্দোলনের উজ্জ্বল নক্ষত্র মনোরমা বসু (মাসিমা), সমাজকর্মী ও মনোরমা বসু মাসিমার স্বামী চিন্তাহরণ বসু, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী ও নারী অধিকার নেত্রী রানী ভট্টাচার্য, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব হিরণলাল ভট্টাচার্য, শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, বিপ্লবী প্রাণ কুমার সেন, কবি জীবনানন্দ দাশের পিতামহ সর্বানন্দ দাশ ও পিতা সত্যানন্দ দাশ সহ ইতিহাসের কত নাম না জানা মনীষী ও স্বজনেরা। শ্মশানঘাট মানেই প্রিয়মুখ হারানোর অন্তিম বেদনা। চিতার দাউ দাউ আগুনের দিকে তাকিয়ে থাকা স্বজনদের চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদ। চিতার ছাই আর জ্বলতে থাকা বাতির আলো মিলেমিশে একাকার হয়ে যে আবহ তৈরি করে, তা আমাদের শেখায়, জীবনের এই ক্ষণপ্রভা যাত্রায় ভালোবাসা আর মানবিকতার চেয়ে বড় কোনও সত্যি আর হতে পারে না। প্রদীপের আলোয় ফুটে ওঠে বিনম্র শ্রদ্ধা, আর নিঃশব্দতার মাঝে বেজে ওঠে আত্মশুদ্ধির গান।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
৭
৭ নভেম্বর রাতে পালিত হতে চলেছে ভূত চতুর্দশী।
৮ নভেম্বর হতে চলেছে কালীপুজো। তার আগের দিন ৭ নভেম্বর রাতে পালিত হবে ভূত চতুর্দশী। তারই প্রস্তুতি চলছে।
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ট্রাম্পের ১৩ দফার কড়া বার্তা, আশঙ্কা ইমপিচমেন্ট নিয়েও
মাইক্রোসফট, গুগলের পর এবার মেটা! মোটা টাকার প্যাকেজ দিয়ে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব