Cuba Fuel Crisis: সব জ্বালানি তেল পুরোপুরি ফুরিয়ে গেল কিউবায়, আঁধারে ঢেকে স্তব্ধ গোটা দেশ

Published : May 14, 2026, 04:55 PM IST
cuba power cut

সংক্ষিপ্ত

Cuba Fuel Crisis: একেবারে গোটা দেশের সব পেট্রোল, ডিজেলের ভাণ্ডার শেষ। দেশেরে কোথাও এক ফোঁটা জ্বালানি তেল নেই। সরকার জানিয়ে দিল, জ্বালানি সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গিয়েছে কিউবায়! ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কার্যত থমকে গিয়েছে গোটা দেশ।

Cuba Fuel Crisis: একেবারে গোটা দেশের সব পেট্রোল, ডিজেলের ভাণ্ডার শেষ। দেশেরে কোথাও এক ফোঁটা জ্বালানি তেল নেই। সরকার জানিয়ে দিল, জ্বালানি সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গিয়েছে কিউবায়! ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কার্যত থমকে গিয়েছে গোটা দেশ। রাজধানী হাভানা-সহ একাধিক শহরে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ নেই, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে কিউবার শক্তি ও খনি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, দেশের হাতে আর একফোঁটা ডিজেল বা জ্বালানী তেল মজুত নেই। এই সুযোগে কিউবায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা চালান কি না সেটা দেখার।

গোটা দেশে ৪০ দিনের জন্য ব্ল্যাকআউট

কিউবার মন্ত্রী সরকারি বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের কাছে একেবারেই কোনও জ্ব নেই, কোনও ডিজেল নেই। কোনও রিজার্ভও নেই।" তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটাই কিউবার সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কট। জ্বালানির অভাবে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এখন একেবারে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। হাভানার বহু এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কিছু এলাকায় টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ব্ল্যাকআউট চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

জ্বালানি আমদানি প্রায় বন্ধ 

এই পরিস্থিতির জন্য কিউবা সরাসরি আমেরিকার তেল অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করেছে। কিউবার দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন কড়াকড়ির ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে জ্বালানি আমদানি প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকেও আর আগের মতো তেল আসছে না। মেক্সিকো থেকেও জ্বালানি পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জেরে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। ডিজেলের অভাবে বাস-সহ গণপরিবহণ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বহু জায়গায় আবর্জনা পরিষ্কার বন্ধ হয়ে গিয়েছে, ফলে রাস্তায় স্তূপ হয়ে জমছে ময়লা। স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বন্ধও রাখতে হয়েছে। হাসপাতালগুলিও ভয়াবহ চাপে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত ব্যাকআপ বিদ্যুৎ নেই বলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

খাদ্যসঙ্কটে জর্জরিত কিউবা

দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই খাদ্যসঙ্কটে জর্জরিত কিউবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ওষুধের অভাব, মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্কটের মধ্যেই নতুন করে এই জ্বালানি বিপর্যয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই হাভানার রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কোথাও কোথাও জ্বালানো হয়েছে আবর্জনার স্তূপ, শোনা গিয়েছে সরকার বিরোধী স্লোগানও। যদিও কিউবা সরকার জানিয়েছে, তারা নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি আমদানি সম্ভব না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে কিউবার মানবিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US-China Relations: বেজিংয়ে পা রাখার আগেই ট্রাম্পকে 'লাল দাগ' দেখিয়ে দিল চিন, আমেরিকাকে কড়া বার্তা
Microplastics: এবার শ্যাওলাই ভরসা! পানীয় জল থেকে প্লাস্টিকের কণা সরাবে এই নতুন প্রযুক্তি