Iran Talks: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ঠিক পথেই এগোচ্ছে। যদিও ইরান এই আলোচনাকে 'অচল' বলে ব্যাখ্যা করেছে। ট্রাম্প আঞ্চলিক সংঘাতকে নিছক 'প্র্যাকটিস' বলে উল্লেখ করেছেন। 

ইরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে চলা আলোচনা নিয়ে বেশ আশাবাদী শোনাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে কথাবার্তা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি ইরানের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। কারণ সম্প্রতি ইরানের তরফেই জানানো হয়েছিল যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আপাতত "অচল" হয়ে আছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-তেহরানের পাল্টা দাবি

শুক্রবার উইসকনসিনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি বলেন, "ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি বেশ ভালোই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।" কিন্তু ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতাবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আলোচনা থমকে আছে। তিনি সাফ বলেন, ওয়াশিংটন যদি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কোটি কোটি ডলারের তহবিল মুক্ত না করে, তাহলে কোনোভাবেই আলোচনা এগোবে না।

ট্রাম্প অবশ্য এই সব শর্তকে বিশেষ পাত্তা দেননি। তাঁর কথায়, মার্কিন প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে আটকানো। আর সেই লক্ষ্য ইতিমধ্যেই পূরণ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্পের দাবি

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমাদের একটা পারমাণবিক অস্ত্রকে নিভিয়ে দিতে হত।" তিনি আরও যোগ করেন, "ইরান একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠছিল, যার হাতে বিশাল পারমাণবিক শক্তি থাকত। আমরা সেটা হতে দিতে চাইনি।" সাম্প্রতিক অভিযানের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, "আমরা সেই কাজটা প্রায় সেরেই ফেলেছি।"

যদিও ট্রাম্পের মতে, এই অচলাবস্থা কাটানোর সেরা উপায় হল কূটনৈতিক আলোচনা, কিন্তু একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। তাঁর কথায়, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পথও খোলা আছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, "একভাবে না একভাবে, এটা শেষ হবেই।" তিনি আরও বলেন, "হয় আপনারা দেখবেন একটা কাগজের টুকরো দিয়ে এর শেষ হচ্ছে, অথবা আরও কঠিন কোনো উপায়ে।"

ইরানি সেনার দাবি

ইরানি সেনা, মার্কিন বাহিনী এবং ইজরায়েলি সেনার মধ্যে সরাসরি সংঘাত সত্ত্বেও ট্রাম্প এই পুরো বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, "এটা আসলে তেমন বড় কোনো যুদ্ধ নয়।" এরপরই তিনি যোগ করেন, "তবে এটা একটা সামরিক সংঘাত। এটা একটা প্র্যাকটিস।"

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ

একদিকে যখন ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন, ঠিক সেই সময়েই ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। ট্রাম্প উইসকনসিনে পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকা একটি বড় সামুদ্রিক চোরাচালান নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অভিযোগ, এই চক্রটি জালিয়াতি করে ওমানের নামে কাগজপত্র তৈরি করে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় ইরানি লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) পাচার করছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই আমেরিকা ক্রমাগত ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে চলেছে।