
থাইল্যান্ডের সুরাত থানি প্রদেশের বিভাবদী রাংসিত ক্যাম্পে শুরু হয়েছে ভারত-থাইল্যান্ডের ১৫তম যৌথ সামরিক মহড়া 'মৈত্রী-১৫'। এই মহড়া চলবে ১৮ থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত। ভারতীয় সেনার ৯ নম্বর গোর্খা রাইফেলস এবং রয়্যাল থাই আর্মির ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের ৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ৮৫ জন করে জওয়ান এই মহড়ায় অংশ নিয়েছেন।
রয়্যাল থাই আর্মির চতুর্থ আর্মি এলাকার কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোরাথিপ ফোইনোক একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহড়ার সূচনা করেন। জঙ্গল ও আধা-শহুরে এলাকায় একসঙ্গে জঙ্গিদমন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বোঝাপড়া বাড়ানোই এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুই দেশের সেনারাই জঙ্গলে টিকে থাকার কৌশল (jungle survival), প্রাথমিক চিকিৎসা এবং আহতদের উদ্ধার করার মতো বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি, ট্রেঞ্চ পরিষ্কার করার কৌশল এবং যৌথ অভিযানে চালকবিহীন আকাশযান বা UAV ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে চিরাচরিত রণকৌশলের মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে।
ভারতীয় সেনাদের থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট 'মুয়ায় থাই'-এর প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এই মার্শাল আর্টকে 'আট অঙ্গের শিল্প' বা 'Art of Eight Limbs' বলা হয়, কারণ এতে একযোগে মুষ্টি, কনুই, হাঁটু এবং শিন ব্যবহার করা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং ক্লোজ-কমব্যাট দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে দুই দেশের সেনার মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বও দৃঢ় হবে।
এই প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে একটি চূড়ান্ত মহড়া (validation exercise) হবে। 'মৈত্রী-১৫' মহড়া দুই দেশের সেনার মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোই 'মৈত্রী' মহড়ার উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের সপ্তম অধ্যায়ের (Chapter VII of the United Nations Charter) অধীনে জঙ্গল এবং আধা-শহুরে পরিবেশে যৌথভাবে জঙ্গিদমন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে এই মহড়া সাহায্য করবে।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণে ফিল্ড এক্সারসাইজ, যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা, বক্তৃতা, বিভিন্ন রণকৌশলের প্রদর্শনী এবং একটি চূড়ান্ত মহড়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দুই দেশের সেনাদল তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে এবং যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিও প্রদর্শন করবে।
২০০৬ সালে এই 'মৈত্রী' মহড়া শুরু হয়েছিল। ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সেরা রণকৌশল আদানপ্রদান এবং সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এই মহড়া দুই দেশের সেনার মধ্যে বোঝাপড়া, সদ্ভাব এবং বন্ধুত্ব বাড়াবে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।