
ভারতীয় নৌসেনার দুই জাহাজ 'সহ্যাদ্রি' ও 'কুলিশ' রবিবার ফিলিপাইনসের সুবিক বে-তে পৌঁছল। একটি সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টারস মিটিং (ADMM)-প্লাস জয়েন্ট কোঅপারেশন অ্যাক্টিভিটি (JCA)-তে অংশ নিতেই জাহাজ দুটি সেখানে গেছে। এটি ভারতীয় নৌসেনার নিয়মিত অভিযানেরই একটি অংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আসিয়ান ভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি আরও আটটি 'প্লাস' দেশের নৌবাহিনী এই এডিএমএম-প্লাস জেসিএ-তে একজোট হয়। সমুদ্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো, একসঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা তৈরি করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।
ভারতীয় নৌসেনা ভারত সরকারের 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি' এবং 'মহাসাগর' (MAHASAGAR) ভিশনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক এবং সমুদ্রে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি আরও একবার স্পষ্ট হলো।
এই মহড়ার ফলে অন্যান্য দেশের নৌবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় নৌসেনার মতবিনিময়ের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে। সমুদ্রে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলো একসঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও এটি বেশ কাজে আসবে।
ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের এই সফর ভারত ও ফিলিপাইনসের মধ্যে বাড়তে থাকা সামুদ্রিক সম্পর্কেরই প্রমাণ। সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারত-ফিলিপাইনস কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Strategic Partnership) প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে, এই মহড়া দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদারি সম্পর্ক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ এনে দিয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত ফিলিপাইনসের রাষ্ট্রদূত জোসেল এফ ইগনাসিও গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (ICWA)-এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি বড় মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত এক দশকে ভারত ও ফিলিপাইনসের সম্পর্ক অনেকটাই মজবুত হয়েছে। গত বছর এই সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আইসিডব্লিউএ-এর রজত জয়ন্তী উদযাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ইগনাসিও বলেন, "কূটনৈতিকভাবে আমাদের সম্পর্ক ৭৭ বছরের পুরোনো। তবে গত ১০ বছরে এই সম্পর্ক চোখে পড়ার মতো এগিয়েছে। গত বছর আমাদের রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি মিলে এই সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছেন।"
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিদেশনীতি ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মাথায় রেখে ফিলিপাইনস এখন ভারতকে 'পারস্পরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সঙ্গী' হিসেবে দেখে। ইগনাসিও বলেন, "কঠিন বিদেশনীতির ক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে পাশে পাচ্ছি। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের স্বার্থ মিলে যায়। আমরা ভারতকে একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্র, পছন্দের নিরাপত্তা সহযোগী এবং বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসা বন্ধু হিসেবেই দেখি।"
তিনি ফিলিপাইনসের নাবিকদের ভারত যেভাবে সাহায্য করেছে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ইগনাসিও বলেন, "গত দু'বছরের নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত মহাসাগরে ফিলিপাইনসের নাবিকদের বিপদের সময় ভারত যেভাবে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছিল, তা আমরা নিজের চোখে দেখেছি।"
আসিয়ান দেশগুলোর কাছে ভারত যে একটি আদর্শ এবং জ্ঞানের ভাণ্ডার, সে কথাও মনে করিয়ে দেন ফিলিপাইনসের এই রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, "আসিয়ান এবং অবশ্যই ফিলিপাইনসের কাছে ভারত একটি আদর্শ। আমরা ভারতকে অত্যন্ত মূল্যবান সহযোগী হিসেবেই বিবেচনা করি।"