
iPhone Birth Rate News: জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে যে কোনও অঞ্চল বা সমাজে জন্মহার সাধারণত হ্রাস পায়। কিন্তু গবেষকরা গত দুই দশকে ভিন্ন কিছু ঘটতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে, ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী জন্মহার প্রায় একই হারে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব হলো? সাম্প্রতিক দুটি গবেষণা দাবি করছে যে এর জন্য আপনার হাতের আইফোনটিই দায়ি হতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ কর্তৃক প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ১৯৮০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জন্মহার প্রতি ১,০০০ জন নারীর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০টি জন্মের মধ্যে মোটামুটি স্থির ছিল। কিন্তু এরপর এতে একটি তীব্র ও ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। ২০২৪ সাল নাগাদ তা কমে ৫৪-তে নেমে আসে – যা ১৭ বছরে ২২ শতাংশ হ্রাস।
কিন্তু জন্মহার হ্রাসের ক্ষেত্রে আইফোনের প্রভাব পরিমাপ করা বেশ কঠিন। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের মতো বড় বৈশ্বিক ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। এই গবেষণাটি ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহারের উপর আইফোনের সম্ভাব্য প্রভাবের উপর আলোকপাত করে – যখন ডিভাইসটি শুধুমাত্র AT&T ক্যারিয়ারের মাধ্যমে পাওয়া যেত। ২০০৭ সালের জুন মাসে চালু হওয়ার পর থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আইফোন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র AT&T-এর মাধ্যমেই পাওয়া যেত। এর মানে হলো, ঐ বছরগুলোতে কোনও একটি কাউন্টিতে আইফোনের প্রাপ্যতা নির্ভর করত AT&T-এর মোবাইল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির ওপর। গবেষকরা এটিকে একটি প্রাকৃতিক পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যেখানে প্রায় সর্বজনীন AT&T কভারেজযুক্ত কাউন্টিগুলোর সঙ্গে স্বল্প বা কোনও কভারেজ নেই এমন কাউন্টিগুলোর তুলনা করা হয়েছে।
গবেষকরা দেখতে পান যে, আইফোনের সহজলভ্যতার কারণে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার ৪.৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৩.২ থেকে ৬.৬ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে, এই হিসাবগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ২০০৭-২০১১ সময়কালে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সাধারণ প্রজনন হার হ্রাসের ৩৩ থেকে ৫২ শতাংশের জন্য আইফোনই দায়ি। ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে জন্মহার ৭০ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ কমেছে, কিন্তু ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে তা কমেছে মাত্র ৭ শতাংশ, যেখানে ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রকৃতপক্ষে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিগুলোও জনসংখ্যা হ্রাসের সম্মুখীন হচ্ছে। চিন ২০১৬ সালে তার এক-সন্তান নীতি বাতিল করেছে, অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জন্মহার বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও তার ফল তেমন সুদূরপ্রসারী নয়। যদিও সাব-সাহারান আফ্রিকা সহ বিশ্বের কয়েকটি দরিদ্রতম দেশে এখনও জন্মহার বেশি, ভারত ও ব্রাজিলের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তি নির্ভরতা যত বাড়ছে ততই কমতে শুরু করেছে জন্মহার।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।