
Philippines Earthquake: ফিলিপিন্সের ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখে শিউড়ে উঠছে বিশ্ব। অতি তীব্র মাত্রার কম্পনে ফিলিপিন্সের বিভিন্ন শহর থেকে আসছে বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর। মৃত্যু মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। সেখানে ভূমিকম্পের প্রভাব ঠিক কতটা ছিল তেমন তাক লাগানো ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এরই মাঝে সামনে এসেছে এক রুদ্ধশ্বাস ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ৩৬ তলা বহুতল ভবন দোলনার মত দুলছে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমে মনে করেছিলেন, এত বড় বহুতলটি হয়তো ভেঙে পড়বে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রবল কম্পনের মধ্যেও বহুতলটি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।
সোমবার সকালে স্থানীয় সময় প্রায় ৭টা ৩৭ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল জেনারেল সান্তোস উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রাঞ্চলে। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মিন্দানাও অঞ্চলের একাধিক শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়ই একটি ৩৬ তলা উঁচু বহুতলটির দোল খাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতলটি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বারবার দুলছে। বহুতলটির ভিতরে থাকা বাসিন্দাদের কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কের।
This 36-storey building swaying after a 7.8 magnitude earthquake in southern Philippines on June 8, 2026. pic.twitter.com/Mz1VN21T85
— Massimo (@Rainmaker1973) June 8, 2026
বিশেষ করে উপরের তলাগুলিতে থাকা মানুষজন কম্পন আরও বেশি অনুভব করেছেন বলে জানা গিয়েছে। অনেকেই আতঙ্কে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা করেন। বহুতলটির আশপাশেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দোল খাওয়া আসলে বহুতলটির ভিত ঠিক কতটা মজবুত তারই প্রমাণ। আধুনিক ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশা অনুযায়ী তৈরি বহুতল ভবনগুলিকে এমনভাবেই নির্মাণ করা হয় যাতে তারা ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ করে নমনীয়ভাবে দুলতে পারে। এতে বহুতলটির উপর চাপ কম পড়ে এবং হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বহুতলে সাধারণত টিউনড মাস ড্যাম্পার, বেস আইসোলেশন প্রযুক্তি বা বিশেষ কম্পন-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাটির তীব্র নড়াচড়া সরাসরি বহুতলটির কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রধান কম্পন থেমে যাওয়ার পরও কিছু সময় ধরে বহুতলটি হালকা দুলছিল, যা পরাঘাত বা আফটারশকের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ওই ৩৬ তলা বহুতলটিতে কোনও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বহুতলটি ধসে পড়েনি এবং সেখান থেকে কোনও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে বহুতলটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্তারা বহুতলটির প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করে দেখছেন। সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের ফের প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভূমিকম্পে আশপাশের কিছু ছোট ও অপেক্ষাকৃত পুরনো নির্মাণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই বহুতল ভবনটি নিজের স্থিতিস্থাপকতার জন্য টিকে থাকতে পেরেছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ফিলিপিন্সে ১০০-রও বেশি আফটার শক রেকর্ড করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। অন্যদিকে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ এবং কাঠামো প্রকৌশলীরা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখছেন, কীভাবে ভবনটি এত বড় কম্পনের মধ্যেও স্থিরতা বজায় রাখতে সক্ষম হল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত ফিলিপিন্স বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তাই সেখানে উঁচু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৩৬ তলা অট্টালিকার দুলে ওঠার দৃশ্য একদিকে যেমন মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনই আধুনিক প্রকৌশলের সাফল্যেরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।