
ইরান দাবি করেছে যে তারা জর্ডনে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান (এরিয়াল রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট) ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাতের বেলার হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধির মধ্যেই এই দাবির বিষয়টি সামনে এল।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপারেশন নসর ২"-এর ১৪তম ধাপের অংশ হিসেবে দুটি পর্যায়ে এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি জানায়, জর্ডনে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি ভরার বিমানগুলোকেই এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। আইআরজিসি দাবি করে যে, বেশ কয়েকটি মার্কিন ট্যাঙ্কার ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন সরকার বা সেনার পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইরান এই হামলাগুলোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাতের বেলার হামলার প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওই মার্কিন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জর্ডনের সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছিল যে, তারা নিজেদের আকাশসীমার উপর দিয়ে আসা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। জর্ডন জানায়, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কারণে কোনও প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিবৃতিতে আইআরজিসি জর্ডনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা দেশটিতে উপস্থিত আক্রমণাত্মক ও ইসলাম-বিদ্বেষী আমেরিকানদের স্বার্থের বিষয়গুলোকে টার্গেট করে।
এর আগে ওই দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে আরও বড় আকারে সামরিক অভিযান চালায়। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার লক্ষ্যে চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সেতুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র কয়েকটি দেশের উ0পর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে কাতারও রয়েছে, যারা এই সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
গত মাসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল তা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ছে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই তাদের সংঘাত আরও তীব্র করে তুলেছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া শুক্রবারের সর্বশেষ হামলার পর আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।