
ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। বিমান হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজনির। ওই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের বাসিজ বাহিনীর শীর্ষ কম্যান্ডার গোলমোরেজা সোলেমানিরও। মৃত্যু হয়েছে আলি লারিজানির পুত্র মোর্তজাও। স্বীকার করে নিল ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
সদ্য সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ওই হামলা আলি লারিজানি এবং তার পুত্র মোর্তজা ছাড়া ওই নিরাপত্তা আধিকারিকের দফতরের প্রধান আলিরেজা বায়াত এবং বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গভীর রাতে ইরানে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে তাদের সেনা। সূত্রের খবর, এই হানার মূল নিশানা ছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি। তবে, এই হামলায় আলি লারিজানি প্রয়াত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। দ্য টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুসারে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার সকালে একটি বৈঠকের পর তিনি বলেন, "গত রাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে, যা এই অভিযানের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে"। তবে, অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই হামলা প্রসঙ্গে নিশ্চিত বার্তা দিল। নিশ্চিত করা হল আলি লারিজনির মৃত্যুর খবর।
এদিকে সোমবারই আলি লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান অবিচল থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলিতে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকবে, আর ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটা আশা করা যায় না।’
এদিক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তাঁর মৃত্যুর পরই লারিজানির মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। লারিজানিকে শেষ দেখা যায় শুক্রবার কুদস দিবসের মিছিলে। ওই দিন মোজতাবা খামেনেই, লারিজানি-সহ ইরানের মোট ১০ জন শীর্ষ নেতার মাথার দাম ঘোষণা করে আমেরিকা। তাঁদের সম্পর্কে খবর দিলেই ১ কোটি ডলার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ওই রাতেই তেবরানে এয়ার স্ট্রাইক শুরু করে ইজরায়েল এবং আমেরিতার যৌথ বাহিনী। ওই বিমান হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে লারিজানির। দাবি করেছে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।