Modi On G7 Summit: ফ্রান্সের এভিয়ানে বসছে ৫২তম G7 শীর্ষ সম্মেলন। ভূরাজনৈতিক সংকট, অর্থনীতি আর AI-এর মতো বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা নিয়ে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরবেন তিনি।

Modi On G7 Summit: সারা বিশ্বের নজর এখন ফ্রান্সের রিসর্ট শহর এভিয়ানের দিকে। কারণ, আগামী সপ্তাহেই সেখানে বসছে ৫২তম G7 শীর্ষ সম্মেলনের আসর। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে সোমবার এক নৈশভোজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মেলনের সূচনা হবে। এতে G7 দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। ফ্রান্সের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে ভূরাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলোই মূল আলোচনার বিষয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্মেলনের আলোচ্যসূচি ও মূল অগ্রাধিকার

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন হবে, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও উপস্থিত থাকবেন। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা হবে। "বিশ্বজুড়ে ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা" শীর্ষক আউটরিচ সেশনে ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রাজিলের মতো আমন্ত্রিত দেশগুলো অংশ নেবে। এখানে মূলত দেশগুলোর মধ্যেকার অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং সুষম উন্নয়নের পথ খোঁজা হবে। সূত্রের খবর, এই সম্মেলনের তিনটি মূল মন্ত্র হল - পদক্ষেপ, পুনঃসংযোগ এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ।

নতুন পদক্ষেপ:-

এক সূত্র জানিয়েছেন, "প্রথমত, এটি হবে নতুন পদক্ষেপের G7। এর মধ্যে AI, অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্যানসারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ব্যাপক সহযোগিতার প্রয়োজন।"

বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ফেরানো

দ্বিতীয় থিম, "পুনঃসংযোগ"-এর মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা কমানো। ওই সূত্র আরও বলেন, "আমাদের ভাবনা হল, সবদিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ভারসাম্যহীনতা রয়েছে যা প্রতিটি অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ে একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য IMF, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার। এরপর G7 বা পরে G20-তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে একমত হতে হবে।"

সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ

তৃতীয় অগ্রাধিকার হল বর্তমান সংকটগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পদক্ষেপ গ্রহণ। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল, গাজা, লেবানন ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা। সূত্রটি জানায়, "আমাদের G7-এর তৃতীয় মূল মন্ত্র হল বর্তমান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ। স্বাভাবিকভাবেই, ইউক্রেন নিয়ে অনেক আলোচনা হবে। আর সম্প্রতি হরমুজ, ইরান, ইজরায়েল, গাজা বা লেবাননের পরিস্থিতি যেমনটা দেখা যাচ্ছে, সেটাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।"

ভারতের ভূমিকা এবং প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এটি ভারতের ১৩তম অংশগ্রহণ এবং অংশীদার দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর টানা সপ্তম উপস্থিতি। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভারত তার মতামত তুলে ধরবে।

G7-এর সদস্য না হয়েও এই সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে ভারতের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বড় আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে ভারতের মতামত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে, বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ বলেন, এই সম্মেলনটি ভারতকে এবং গ্লোবাল সাউথকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার একটি সুযোগ করে দেবে।

জর্জ বলেন, "এই সফর প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে ভারত এবং গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে আউটরিচ আলোচনায় মূলত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়নমূলক সংহতি পুনর্নবীকরণ, ভারসাম্যপূর্ণ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে কথা হবে। সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী G7 নেতা, অংশীদার দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রে এভিয়ান

২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে G8 শীর্ষ সম্মেলন এবং সাত বছর আগে ২০১৯ সালে বিয়ারিৎজে G7 শীর্ষ সম্মেলনের পর, ফ্রান্সের এভিয়ান শহরটি আবারও বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একাধিক ভূরাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত বিশ্বে সমাধান খুঁজতে এখানেই জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। (ANI)

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।