
Israel-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইজরায়েল এবার ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ আলি লারিজানিকে (Ali Larijani) নিশানা করেছে। এই হামলার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, লারিজানি কি আদৌ বেঁচে আছেন? এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট খবর সামনে আসেনি। মঙ্গলবার একটি বিমান হানায় লারিজানিকে টার্গেট করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলও পরিষ্কার করে জানায়নি যে এই হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে নাকি তিনি আহত হয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গুজব দ্রুত ছড়ায়, কিন্তু সরকারিভাবে কিছু না জানানো পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা মুশকিল।
ইরান এমনিতেই একের পর এক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যু দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর পর দায়িত্ব নেওয়ার কথা যাঁর ছিল, সেই মোজতাবা খামেনেইও (Mojtaba Khamenei) গুরুতর আহত বলে খবর। এছাড়াও, শীর্ষ কমান্ডার ঘোলামরেজা সোলেইমানিও (Gholamreza Soleimani) হামলায় মারা গিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যদি লারিজানির কিছু হয়ে যায়, তবে তা ইরানের ক্ষমতার জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা হবে।
‘টাইমস অফ ইজরায়েল’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি বিমান সোমবার রাতে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে। এই হামলার মূল টার্গেট ছিলেন আলি লারিজানি এবং বাসিজ প্যারা মিলিটারি ফোর্সের কমান্ডার ঘোলামরেজা সুলেইমানি। সুলেইমানির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু লারিজানিকে নিয়ে এখনও রহস্য জিইয়ে রয়েছে। তিনি আহত নাকি নিহত, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
গত ১৩ মার্চ আমেরিকা লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার মাথার দাম হিসেবে ৯২ কোটি টাকা ($10 মিলিয়ন) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এর ঠিক চার দিন পরেই ইজরায়েল তাঁকে খুঁজে বের করে। এই লারিজানিই একসময় আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সরকার সাধারণ মানুষকে তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব 'চাহারশম্বে সুরি' (আগুনের উপর দিয়ে লাফানোর উৎসব) পালন করতে বারণ করেছে। সরকারের যুক্তি, এর ফলে আহতদের ভিড় কম থাকবে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর চাপ পড়বে না।