Iran-US Talks: আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক? ইসলামাবাদে পৌঁছেই জল্পনা ওড়াল ইরান

Published : Apr 25, 2026, 10:02 AM IST
Iran-US Talks: আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক? ইসলামাবাদে পৌঁছেই জল্পনা ওড়াল ইরান

সংক্ষিপ্ত

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। তবে এই সফরে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কোনও বৈঠকের সম্ভাবনা ইরান পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনাই চলবে।

শুক্রবার ইসলামাবাদে পা রেখেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরান আর ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক যখন তলানিতে, তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা এই সফরের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হল। জোর জল্পনা চলছিল যে, পাকিস্তানের রাজধানীতে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে। কিন্তু তেহরান সেই জল্পনা সঙ্গে সঙ্গে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

আঞ্চলিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আরাঘচির এই সফর। বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির মধ্যস্থতার পরেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য নিঃশব্দে কাজ করছেন। ইসলামাবাদকে দুই পুরনো শত্রুর মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে পাকিস্তান।

‘আমেরিকানদের সঙ্গে কোনও বৈঠক নেই’

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়। বাঘাই তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “এই সফরে আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।”

বরং, ইরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পাকিস্তান পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। তেহরান কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখতে ইচ্ছুক, তবে শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে। এই অবস্থান আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং সতর্কতাকেই তুলে ধরে।

এই সফরে আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই আলোচনাকে আঞ্চলিক সংঘাত সমাধানে দেশের উদীয়মান ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে যখন পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরাপত্তা এবং জ্বালানির বাজারকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে, আমেরিকাও তার নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সহ আমেরিকান প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাবেন বলে খবর। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে ইরানের সঙ্গে কোনও পরোক্ষ বা ভবিষ্যৎ প্রত্যক্ষ আলোচনা হতে পারে কিনা। কিছু রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে আমেরিকার একটি লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

এত প্রস্তুতির পরেও তেহরান প্রকাশ্যে তার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। চাপের মুখে আলোচনা করছে, এমন কোনও ধারণা ইরান দিতে চায় না। সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পাকিস্তানের মাধ্যমে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত ইরানকে কৌশলগতভাবে কিছুটা সুবিধাও দিচ্ছে। এর ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

এই সফরটি বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে কারণ এর আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করার বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। আগের আলোচনাগুলো কোনও সমাধান দিতে পারেনি, যার ফলে পাকিস্তান পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। দুই পক্ষই যখন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল না হয়ে উত্তেজনা এড়ানোর পথ খুঁজছে, তখন ইসলামাবাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদে আরাঘচির আগমনের প্রতীকী গুরুত্বও বৈঠকের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি আলোচনা না হলেও, পাকিস্তানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক চ্যানেল এখনও সক্রিয়। পাকিস্তানের জন্য, এই সফর বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক বিরোধে নিজেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তুলে ধরে।

ইসলামাবাদের এই বৈঠক থেকে আদৌ কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে আপাতত, ইরান একটি বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে: কূটনীতি এখনও সক্রিয়, কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে যে কোনও আলোচনা হবে তেহরানের শর্তে—এবং তা হবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, প্রকাশ্যে কোনও আলোচনার টেবিলে নয়।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Bhutan: অচেনা ভুটানের খোঁজ! প্রথম আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে সস্তার প্যাকেজ
চিন-আমেরিকায় বিজ্ঞানীদের রহস্যমৃত্যু, শুরু হয়ে গেল নতুন 'সায়েন্টিফিক কোল্ড ওয়ার'?