
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানকে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' বা ইসলামিক ন্যাটো-তে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত ৭ আগস্ট এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। 'আল মায়াদিন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্ট বিষয়ক সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদি রহিমি জানিয়েছেন যে তেহরান এই আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এএফপি-র উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ও সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্তানুযায়ী—এই তিনটি দেশের যে কোনও একটির উপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের উপরেই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এই অঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পুরো পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে একটি সাহসী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশেষে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি সন্তুষ্ট। হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করার পাশাপাশিই তিনি এই মন্তব্য করলেন।
এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দেশটির নবনিযুক্ত বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশ হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। পিটিআই-এর তথ্যমতে, কবির আরও বলেছেন যে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সংঘাতের মুখে অটল থাকার জন্য ইরানের জনগণের প্রশংসা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এমন আশঙ্কা ছিল যে ইরানকে ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে, কিন্তু ইরানি জনগণ সেই আক্রমণ রুখে দিয়েছে। রবিবার 'গভর্নমেন্ট উইক' বা সরকারি সপ্তাহ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তাঁর এই ভাষণ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'প্রেস টিভি'-তে প্রচার করা হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে আরেকটি ভেনেজুয়েলায় পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে ইরান এমন এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে যা প্রতিরোধ, সংহতি ও ঐক্যের মাধ্যমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। পেজেশকিয়ান ইরানের শত্রুদের দ্বারা শুরু করা 'সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ' মোকাবেলায় অব্যাহত ঐক্যের আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধের সময় ইরানিরা যেভাবে একে অপরকে সমর্থন করেছিল, ঠিক সেভাবেই তাঁদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
FAQ:
১. ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কী?
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মূল বিষয় হল, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
২. কেন একে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলা হচ্ছে?
চুক্তিতে অংশ নেওয়া দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি থাকায় অনেকেই এটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে উল্লেখ করছেন। তবে এটি ন্যাটোর আনুষ্ঠানিক বিকল্প বা একই ধরনের জোট—এমন দাবি করার আগে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো দেখা জরুরি।
৩. ইরান কি এই চুক্তিতে যোগ দেবে?
ইরানকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরান প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। তবে ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
৪. বাংলাদেশ কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে যোগ দেবে?
বাংলাদেশও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে যোগ দিয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
৫. চুক্তিতে কোন কোন দেশ ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছে?
৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
৬. চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কী?
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল—সৌদি আরব, পাকিস্তান বা তুরস্কের যে কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিনটি দেশের উপরেই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।