শনিবার পাকিস্তান ভারতের 'চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স'-কে তলব করে এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে দুদিন আগে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, নিহত ব্যক্তিরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন।
শনিবার পাকিস্তান ভারতের 'চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স'-কে তলব করে এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে দুদিন আগে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, নিহত ব্যক্তিরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার পাঞ্জাবের তারন তারান জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানরা সন্দেহভাজন দুই পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে। দুপুরের দিকে এই ঘটনাটি ঘটে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ওই দুজনকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি খারিজ করেন।
তারন তারানের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ভিকিওয়িন্ড) অতুল সোনি জানান, তিনজন অনুপ্রবেশকারী ভারতের দিকে এগিয়ে আসছিল, তবে একজন পরে পাকিস্তানে ফিরে যান। তিনি বলেন, বিএসএফ জওয়ানরা ফিরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্য দুজন ভারতের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিএসএফ জানিয়েছে, ওই দুজন জওয়ানদের উস্কানি দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে তাঁরা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চান। সোনি জানান, এরপর বিএসএফ গুলি চালালে ওই দুজন নিহত হন। বিএসএফ-র কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
উত্তর ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের সঙ্গে পাকিস্তানের ৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত দুজন অসামরিক নাগরিক ছিলেন যারা সীমান্ত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেছিলেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ভারতের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, "বিএসএফ সদস্যরা নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করেছে। বলপ্রয়োগের এই ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও পরিস্থিতির তুলনায় অত্যধিক, যার ফলে দুটি মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। এই ঘটনাটি জীবনধারণের অধিকার-সহ মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অসামরিক নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষার বিষয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।'
পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রক ভারতের প্রতি আহ্বান জানায় যেন এই ঘটনার অবিলম্বে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা হয়, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে পাকিস্তান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।


