
বাংলাদেশের রংপুর শহরে শনিবার গভীর রাতে একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থনা (২৩) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
রংপুর মেট্রোপলিটন সিআইডি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর চৌধুরী ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে জানান, প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ সিঁড়িতে পাওয়া গেছে, গণপতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ছাদ থেকে এবং প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া গেছে একটি খাটের নীচে। চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোরের কোনও এক সময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দল যৌথভাবে এই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পরিবারের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। প্রীতিলতার ছোট বোন পুজা চক্রবর্তী ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষবার তাঁর বোনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ফোন বন্ধ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শনিবার রাতে স্বজনরা ওই বাড়িতে যান। বাড়ির গেট তালাবদ্ধ ছিল এবং ভেতরে আলো নেভানো ছিল। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ওই চারজনের মরদেহ দেখতে পায়। পুজা জানান, পরিবারটি সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি নতুন বাড়ি তৈরি করেছিল এবং গণপতির সঙ্গে কারও কোনও বিরোধের কথা তাঁর জানা ছিল না।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণপতি রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। তাঁর মেয়ে এ বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং ছেলে রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গণপতির ভাইঝি সোমা চক্রবর্তী জানান, তাঁর কোনও পরিচিত শত্রু ছিল না। তিনি আরও জানান যে, অবসরের পর তিনি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু চন্দ্র দাস জানান, পরিবারটি প্রায় চার বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল। গণপতি তিনতলা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন, যদিও এর নির্মাণকাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা জড়িতদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।