
রবিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে "নতুন মার্কিন এলাকা" হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা তার অবস্থান না বদলালে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধই থাকবে। ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে এই ছবিটি পোস্ট করেন। এর আগেও ১৮ আগস্ট তিনি একই গ্রাফিক শেয়ার করেছিলেন। এমনকি ১৪ আগস্ট লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমির অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, "খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা হিসেবে ঘোষণা করব"।
ওয়াশিংটনের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে আমেরিকার ব্যর্থতা এবং এটিকে নিজেদের বলে দাবি করার মধ্যে যে ফারাক, তা ওয়াশিংটন ও প্রণালীর মধ্যেকার ৭,০০০ মাইলের দূরত্বের চেয়েও বেশি।" তিনি আরও যোগ করেন, “পারস্য উপসাগরে আমেরিকান-পরবর্তী যুগে আপনাদের স্বাগত জানাই।”
এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যেই আমেরিকা তেহরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আর্থিক সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে। ইরান এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নিন্দা করেছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং চিনের মতো প্রধান বাণিজ্য সহযোগীদের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। চিন এখনও ইরানের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক।
এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে "ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা" জারির কথা বলেছিলেন। তিনি ইরানের তেল রপ্তানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য বেজিংকে আহ্বান জানান। এই আসন্ন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটন এর মাধ্যমে নিজেদের আঞ্চলিক ক্ষমতার বাইরেও প্রভাব খাটাতে চাইছে। ২২ আগস্ট তিনি এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেন, "এই ধরনের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই।"
একই সঙ্গে, মোহসেন রেজাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপে যোগ না দেওয়ার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রেজাই বলেন, “আমরা আশেপাশের সব দেশকে বলছি আমেরিকার এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দিতে। নাহলে আমরা তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করব।”
এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। তেহরান জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ এবং অনুমোদনহীন ট্যাঙ্কারের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশি সরকারগুলোকে তেহরানকে "কোনো ধরনের লাইফলাইন" না দেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের শর্তে ইরানকে চুক্তিতে রাজি হতেই হবে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার রাস্তাও খোলা রেখেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অচলাবস্থা কাটাতে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের উচিত জাতীয় শক্তি ও মর্যাদা রক্ষা করে এই সংঘাতের অবসান ঘটানো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে হরমুজ প্রণালীকে "নতুন মার্কিন এলাকা" বলে চলেছেন, আর তেহরান বলছে আমেরিকার নীতি না বদলালে জলপথ বন্ধই থাকবে। এই পরিস্থিতিতে, এই কৌশলগত জলপথকে ঘিরেই সংকট আরও বাড়ছে। (এএনআই)