Strait Of Hormuz: হরমুজে জাহাজ প্রতি ২ মিলিয়ন ডলার নিচ্ছে ইরান, ভারতকেও কি দিতে হয়েছে?

Published : Mar 23, 2026, 09:43 AM IST
Iran is charging some merchant vessels USD 2 million to allow passage through the conflict-hit Strait of Hormuz

সংক্ষিপ্ত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮.৭৫ কোটি টাকা) করে ইরান নিচ্ছে। এমনই দাবি করছে বলে একটি সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনটিতে একজন ইরানি সাসদের বক্তব্যকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি এই দাবিটি করেছেন।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮.৭৫ কোটি টাকা) করে ইরান নিচ্ছে। এমনই দাবি করছে বলে একটি সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনটিতে একজন ইরানি সাসদের বক্তব্যকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি গত রবিবার এই দাবিটি করেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এই পদক্ষেপটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর ইরানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লন্ডন-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' বোরুজের্দির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, "এখন যেহেতু যুদ্ধের পেছনে ব্যয় রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট বা যাতায়াত ফি আদায় করতে হবে।"

জানা গেছে, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে বোরুজের্দি মূলত এই মন্তব্যটি করেছিলেন। বোরুজের্দি আরও বলেন যে, এই পদক্ষেপটি ইরানের শক্তিকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য, ইরানের ওপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায়, এ ধরনের যে কোনও আর্থিক লেনদেন জাহাজ পরিবহনকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

হরমুজ প্রণালী: যুদ্ধের প্রভাব

হরমুজ প্রণালী হল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'চোক পয়েন্ট' বা সংকীর্ণ জলপথ; চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার ফলে বিশ্বের অধিকাংশ স্থানেই জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীটি শুধুমাত্র শত্রুপক্ষ এবং তাদের আগ্রাসনে সহায়তাকারী দেশগুলোর ট্যাঙ্কার ও জাহাজের জন্যই বন্ধ রাখা হয়েছে।

গত সপ্তাহে তিনি জাপানি সংবাদ সংস্থা 'কিয়োদো'-কে জানান যে, জাপানের জাহাজগুলোকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। অবশ্য, উভয় দেশের কোনও পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও নিশ্চয়তা বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এর আগে, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) বহনকারী ভারতের পতাকাবাহী দুটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল ইরান।

গত শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী আরও দুটি LPG ট্যাঙ্কার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃত জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে আরও জানা যায় যে, অন্তত একটি পাকিস্তানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওই প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রণালীটি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

শনিবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ওই জলপথটি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, নির্ধারিত এই সময়সীমা মেনে না চললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর হামলা চালানো হবে। এই হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের কথা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোর উপর হামলা চালানো হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

আমাদের পাওয়া প্ল্যান্টে হামলা হলে পুরো বন্ধ করে দেওয়া হবে হরমুজ, ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব ইরানের
T-Rex: তৃণভোজী ডাইনোসরের মাথায় গেঁথে গিয়েছিল টি-রেক্সের ধারালো দাঁত! গবেষণায় চমক