
শনিবার আমেরিকা আর ইজারেয়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। তার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রত্যাঘাত ইরানের। ইজরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে আচমকাই মিসাইল হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে হাইফয় নিরাপত্তা ও সামরিক কেন্দ্র ও পূর্ব জেরুজালেমে একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইরান।
আইআরজিসি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, ইহুদি শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের বিমান বাহিনীর মকান্ডারের সদর দফতরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালান হয়েছিল। ইরানের রেভলুশ্যানারি গার্ড বা সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পাল্টা হামলায় ইজরায়েলের একাধিক পরিকাঠামো যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য় বর্তমানে অনিশ্চিত। তবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের ওপর ইজরায়েল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ। রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাহলভি মার্কিন এই পদক্ষেপকে 'গেম চেঞ্জার' বা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা বহু ইরানি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফক্স নিউজের 'সানডে মর্নিং ফিউচারস' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "কোনও সন্দেহ নেই যে এটাই সেই পরিস্থিতি বদলানোর মতো ঘটনা, যার জন্য আমরা এতদিন অপেক্ষা করছিলাম। দেশে এবং বিদেশে থাকা ইরানিদের উল্লাসই দেখিয়ে দিচ্ছে যে মানুষ কতটা এই মুহূর্তটার জন্য আশা করে ছিল।"
নির্বাসিত যুবরাজ আরও বলেন, "আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে অবশেষে এই শাসনের শেষের শুরুটা দেখতে পাচ্ছি। কারণ আমরা এবার এই শাসনের আরও বেশি পতন দেখতে পাব, যা সাধারণ ইরানিদের রাস্তায় নেমে এই ঘৃণ্য শাসনের হাত থেকে নিজেদের দেশ ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।"
পাহলভি যুক্তি দেন, এই সাম্প্রতিক হামলা আগের সমস্ত পদক্ষেপকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আগের হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আটকানো। কিন্তু তাঁর মতে, রবিবারের এই ঘটনা শাসকগোষ্ঠীকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দেবে এবং এর পতনকে আরও দ্রুত করবে।