
সোমবার কুয়েত সিটির আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। তেল সমৃদ্ধ এই উপসাগরীয় দেশটিতে ইরানের লাগাতার হামলার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এক এএফপি সংবাদদাতা মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে এই ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন।
সকাল থেকেই রাজধানী জুড়ে এয়ার রেইড সাইরেন বাজতে থাকে, যা নতুন করে আকাশপথে হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। শনিবার থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই হামলা শুরু হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস সরাসরি তাদের চত্বরে হামলার কথা স্বীকার না করলেও, একটি জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কুয়েতের ওপর মিসাইল ও ইউএভি (ড্রোন) হামলার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। দূতাবাসে আসবেন না।"
দূতাবাস কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে। হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দূতাবাসের কর্মীরাও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আপনারা নিজেদের বাড়ির সবচেয়ে নিচের তলায় জানলা থেকে দূরে আশ্রয় নিন। বাইরে বেরোবেন না।"
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ভোরের দিকে বেশ কয়েকটি ড্রোনকে রুখে দিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পরিধি বাড়ছে।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরই তেহরান এই ভয়ঙ্কর প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক রবিবার নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় দেশে প্রথমবার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরের কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় তাদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই পদক্ষেপ।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সেনাবাহিনীর স্থল ও নৌবাহিনীর মিসাইল ইউনিট বিভিন্ন জায়গা থেকে কুয়েতের মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে থাকা শত্রু-জাহাজকে নিশানা করেছে।"
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে যে, এই হামলায় "১৫টি ক্রুজ মিসাইল" ব্যবহার করা হয়েছে।