
Al Aqsa Mosque Missile Attack Video: সারা বিশ্ব যখন শনিবার ইদের উৎসবে মেতে, ঠিক তখনই ইজরায়েলের পবিত্র শহর জেরুজালেমে মিসাইল হামলা চালাল ইরান। একটি মিসাইল এসে পড়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে। ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক এবং সেনা (IDF) একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আর শার্পনেল পবিত্র ওল্ড সিটির ওপর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে। মিসাইলটি আল-আকসা চত্বরের এতটাই কাছে পড়েছিল যে সেখানে একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, ডোম অফ দ্য রক বা মসজিদের মূল কাঠামোর বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আশেপাশের রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।
জেরুজালেমের ইতিহাসে ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। রমজানের শেষ ১০ দিন এবং ইদের দিন নমাজিদের জন্য আল-আকসা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও আমেরিকা সামরিক অভিযান শুরু করার পরই নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আল-আকসা, হোলি সেপালকার চার্চ এবং ওয়েস্টার্ন ওয়াল—এই তিনটি পবিত্র স্থানই সিল করে দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার নমাজি ওল্ড সিটির বন্ধ গেটের বাইরে জড়ো হন। বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই ইদের নমাজ পড়েন তাঁরা। ওয়াজদি মহম্মদ নামে এক বয়স্ক প্যালেস্তিনীয় নমাজি আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, 'আজ আমাদের কাছ থেকে আল-আকসা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই রমজান মাসটা খুব দুঃখের এবং যন্ত্রণার। জেরুজালেমের বাসিন্দা এবং বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের জন্য এই পরিস্থিতি একটা বিপর্যয়ের থেকে কম কিছু নয়।'
ইজরায়েলি পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মিসাইলের একটি বড় অংশ 'চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার'-এর ছাদে এসে পড়েছে। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র স্থানেই যিশু খ্রিস্টকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ইজরায়েলের দাবি, ইরান এই হামলা নির্বিচারে চালিয়েছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ধ্বংসলীলা চালানো, তা সে সাধারণ মানুষের এলাকা হোক বা বিশ্বের পবিত্রতম স্থান।