
ওয়াশিংটন: ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র (আল্টিমেটাম) দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারি, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খোলা না হলে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এই হুমকির পরেই পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের তেল ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে, এই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন পরিকাঠামো তাদের নিশানায় থাকবে। মজার বিষয় হলো, যুদ্ধ শেষ করার কথা বলার ঠিক পরেই ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন। প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগই এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও ইরানের দাবি, আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলো ছাড়া বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলাই আছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন যে, বেশ কয়েকটি দেশ জাহাজের নিরাপদ পথের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এরই মধ্যে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি নতুন "শান্তি চুক্তি" করার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, এই গোপন আলোচনার জন্য ট্রাম্প তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী ও পরিবারের সদস্য জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভেন উইটকফকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যুদ্ধ যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য ইরানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে কুশনার ও উইটকফকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ‘আব্রাহাম চুক্তি’-র পিছনে মূল মাথা ছিলেন এই কুশনারই।
আমেরিকার সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস রিপোর্ট করেছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন যে তিনি যুদ্ধ নয়, শান্তি চান। আমেরিকা যে প্যাকেজটির প্রস্তাব দিচ্ছে, তাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে, কিন্তু বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হবে। এই প্রস্তাবে ইজরায়েল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইজরায়েলের কট্টর দক্ষিণপন্থী দলগুলো চায় ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হোক।