
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া জবাব দিল ইরান। মঙ্গলবার তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের হাত এখনও বন্দুকের ট্রিগারে আছে, তবে তারা একটি "আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির" জন্য অপেক্ষা করছে। এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে "লাইফ সাপোর্টে" আছে বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প ইরানের ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাবকে "এক টুকরো আবর্জনা" বলে অভিহিত করে বলেন, "ওরা (ইরান) লাইফ সাপোর্টে আছে। যুদ্ধবিরতিও ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।"
এর জবাবে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি দেশের সামরিক প্রস্তুতির কথা জানান। ইরানের স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (ISNA) তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বের সেরা সামরিক শক্তির সঙ্গে ৪০ দিন ধরে লড়েছি। এখনও আমাদের হাত ট্রিগারেই আছে, তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অপেক্ষায় আছি।"
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ দিন ধরে তীব্র সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থার পর ৮ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। আলোচনা এখনও চলছে।
তবে মোহাজেরানি স্পষ্ট করে দেন যে ইসলামিক রিপাবলিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হল স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।"
এই দ্বিমুখী কৌশলের পিছনে রয়েছে দেশের মূল আদর্শ। মোহাজেরানি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রের রণকৌশল ঐতিহাসিক নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি বলেন, "শহিদ নেতার কথা অনুযায়ী, আমরা সম্মান, প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতা—এই তিনটি নীতির উপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক বিষয়গুলো সামলাই।"
এই "আলোচনার মাধ্যমে সমাধান"-এর বিষয়টি ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরান সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা এই সংঘাত শেষ হলেই সারা দেশে অবাধ ইন্টারনেট পরিষেবা আবার চালু করা হবে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মোহাজেরানি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ইন্টারনেট সংযোগকে বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, "সরকারের লক্ষ্য হল ইন্টারনেট-সহ সমস্ত পরিকাঠামোতে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা ইন্টারনেট সংযোগকে নাগরিক অধিকার বলে মনে করি এবং এটাই প্রেসিডেন্টের মত। আমরা বৈষম্য ও অবিচারের বিরোধী।"
এই অধিকার পুনরুদ্ধার করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের "ইন্টারনেট-পন্থী নীতি"-র লক্ষ্য হল ব্যবসাগুলোকে উন্নত মানের ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া। তাঁর মতে, বর্তমান সীমাবদ্ধতা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির একটি দুর্ভাগ্যজনক ফল। তিনি বলেন, "ঈশ্বরের ইচ্ছায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই অবস্থাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।"
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের শিকার। শুধুমাত্র সরকার-অনুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোই ব্যবহার করা যাচ্ছে।