
Suicide Blast In Pakistan: পাকিস্তান আবার সন্ত্রাস আর হিংসার আগুনে জ্বলছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এই বিস্ফোরণটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নওরং বাজারে (Naurang Bazar) ঘটেছে। ঘটনার সময় বাজারটিতে প্রচুর ভিড় ছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি করতে শুরু করে। বিস্ফোরণের পর চারিদিকে শুধু ধোঁয়া, আর্তনাদ আর বিশৃঙ্খলার ছবি। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ এবং ভাঙা দোকানের ভেতর থেকে অনেক আহতকে বের করে আনা হয়।
পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবা সংস্থা Rescue 1122 জানিয়েছে, বিস্ফোরণে প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য বান্নুর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। THQ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মহম্মদ ইশাক জানিয়েছেন, হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত ৩৭ জন আহত এসে পৌঁছেছেন। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁদের চিকিৎসায় সর্বক্ষণ নিযুক্ত রয়েছে।
এই বিস্ফোরণটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তান এমনিতেই লাগাতার জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছে। কিছুদিন আগেই বান্নু জেলায় একটি পুলিশ চৌকিতে বড়সড় হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ এবং অতর্কিত আক্রমণে ১৫ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়। পাকিস্তান সরকার সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর জন্য আফগানিস্তানে সক্রিয় জঙ্গিদের দায়ী করেছে। এই বিষয়ে ইসলামাবাদ তালিবান সরকারের কাছে কড়া প্রতিবাদও জানিয়েছে।
যদিও আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালিবান প্রশাসনের বক্তব্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা জঙ্গি কার্যকলাপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আফগানিস্তান কোনও জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন করে না। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। এই বছরের শুরুতেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি ছিল, সেখানে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।
মঙ্গলবার বাজারে হওয়া এই বিস্ফোরণের দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে বাড়তে থাকা অস্থিরতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আগামী দিনে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।