Persian Gulf:বিদেশিদের জায়গা হবে পারস্য উপসাগরের গভীরে, আমেরিকাকে হুঁমকি ইরানি নেতা খামেনির

Published : Apr 30, 2026, 06:31 PM IST
 iran us peace talks mojtaba khamenei approval ceasefire islamabad negotiations jd vance

সংক্ষিপ্ত

পারস্য উপসাগর দিবসে আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকাবিহীন এবং বিদেশি শক্তির একমাত্র স্থান হবে 'জলের গভীরে'। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতাবা খামেনি আমেরিকার বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকাকে ছাড়া। বিদেশি শক্তিগুলোর এই অঞ্চলে কোনও জায়গা নেই, তাদের স্থান হবে 'জলের গভীরে'।

আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি

পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে ইরানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (IRIB)-কে দেওয়া এক বার্তায় খামেনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভাগ্য একই সুতোয় বাঁধা। তাই দূরের দেশ থেকে আসা বাইরের শক্তিদের উপসাগরীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। খামেনি এই পরিস্থিতিকে ইরানের প্রতিরোধ নীতি এবং আঞ্চলিক গতিশীলতার দ্বারা সৃষ্ট একটি "নতুন শৃঙ্খলার" সূচনা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "ঈশ্বরের কৃপায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকাবিহীন। এখানকার মানুষের উন্নতি, আরাম ও সমৃদ্ধির জন্য এই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের জলে আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে যারা লোভের বশে এখানে এসে কুকীর্তি করে, তাদের জন্য জলের গভীর ছাড়া আর কোনও স্থান নেই। ইরানের শক্তিশালী প্রতিরোধ নীতির ফলে এই বিজয় সম্ভব হয়েছে, যা এই অঞ্চলে এবং বিশ্বে একটি নতুন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবে।"

লক্ষ্য ইরানিদের

খামেনি ইরানের জনগণের ক্রমবর্ধমান ঐক্য ও শক্তির কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশের জাতীয় শক্তি এখন বিজ্ঞান, শিল্প এবং পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ৯ কোটি ইরানি নাগরিক এখন এই ক্ষমতাগুলোকে জাতীয় সম্পদ হিসাবে দেখে এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার মতোই সেগুলোকে রক্ষা করতে চায়।

খামেনি বলেন, "আজ ইরানি জাতির এই জাগরণ শুধু সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই যারা জায়নবাদ এবং রক্তপিপাসু আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা নয় কোটি ইরানি এখন ন্যানো এবং বায়ো থেকে শুরু করে পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সমস্ত প্রযুক্তিকে তাদের জাতীয় পুঁজি হিসাবে বিবেচনা করে এবং জল, স্থল এবং আকাশসীমার মতোই তা রক্ষা করবে।"

পারস্য উপসাগর দিবস

ইরানে প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল পারস্য উপসাগর দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মরণে পালিত হয় এবং উপসাগর ও তার কৌশলগত জলপথের উপর জাতীয় সার্বভৌমত্বকে জোরদার করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই দিনটি ১৬২২ সালে হরমুজ দ্বীপ থেকে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক বাহিনীকে বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক ঘটনাকে চিহ্নিত করে।

প্রেস টিভির মতে, ইরানের শাসক আব্বাস প্রথমের নেতৃত্বে পর্তুগিজদের পরাজিত করার মাধ্যমে প্রায় এক শতাব্দীর বিদেশি নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছিল। খামেনির এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে দিয়েছেন, যখন হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Oil Price: ট্রাম্পের এক কথায় আগুন ! ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়াল অপরিশোধিত তেল
Donald Trump: 'ভালো মানুষ সেজে আর থাকব না', মেশিনগান হাতে ছবি পোস্ট করে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের