Iran Missile: ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি চাওয়ার মধ্যেই ইরানের হামলা, গার্সিয়া দ্বীপে ৪০০০ কিমি পাল্লার মিসাইল

Published : Mar 21, 2026, 09:45 AM IST
Iran Targets US Base in Diego Garcia with Ballistic Missiles

সংক্ষিপ্ত

Iran Vs US: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কমানোর কথা বলছেন, ঠিক তখনই দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি অত্যান্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা বলছেন, ঠিক তখনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়ার মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ইরানের হামলা

খবরে বলা হয়েছে, একটি মিসাইল মাঝপথেই বিগড়ে যায়। অন্যটির দিকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে SM-3 ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়। তবে সেই হামলা পুরোপুরি ব্যর্থ করা গেছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মিসাইলগুলো ঠিক কবে ছোড়া হয়েছিল, তা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।

SM-3 ইন্টারসেপ্টর কী ?

SM-3 ইন্টারসেপ্টর হল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশেষ অস্ত্র, যা স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে পারে। এটি বিস্ফোরকের বদলে স্রেফ গতির জোরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর "কিল ভেহিকেল" ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ মাইল বেগে চলা ১০ টনের ট্রাকের মতো শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ে। অস্ত্রপ্রস্তুতকারী সংস্থা রেথিয়নের মতে, এই পদ্ধতি অনেকটা "একটা বুলেট দিয়ে আর একটা বুলেটকে আটকানোর মতো"।

ইরানের মিসাইল ঠিক কতটা শক্তিশালী?

এই হামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান থেকে দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের মিসাইলের পাল্লা হয়তো তাদের ঘোষিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। গত মাসেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, তাদের মিসাইলের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দিয়েগো গার্সিয়ার এই ঘাঁটিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের যৌথভাবে পরিচালিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র।

যুদ্ধ বিরতি চান ট্রাম্প!

এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চাইছে না। হোয়াইট হাউসের বাইরে তিনি বলেন, "আমরা আলোচনা করতে পারি, কিন্তু আমি যুদ্ধবিরতি চাই না। যখন আপনি অন্য পক্ষকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি হয় না... আমরা তেমন কিছু করতেও চাইছি না।"

তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন সামরিক অভিযান শীঘ্রই কমানো হতে পারে। একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, "আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টা শেষ করার কথা ভাবছি এবং আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।"

মার্কিন লক্ষ্য পুরণ

মার্কিন লক্ষ্যগুলো উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "(১) ইরানের মিসাইল ক্ষমতা, লঞ্চার এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা। (২) ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটি ধ্বংস করা। (৩) তাদের নৌ ও বিমানবাহিনীকে নির্মূল করা, যার মধ্যে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রও রয়েছে। (৪) ইরানকে পরমাণু ক্ষমতার কাছাকাছিও ঘেঁষতে না দেওয়া... (৫) আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সর্বোচ্চ স্তরে রক্ষা করা..."

পেন্টাগন এই অঞ্চলে তিনটি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ এবং হাজার হাজার মেরিন সেনা পাঠিয়েছে।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আল জাজিরার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন যে বিশ্বজুড়ে "পার্ক, বিনোদনমূলক এলাকা এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলো" ইরানের শত্রুদের জন্য নিরাপদ থাকবে না। এই হুমকিতে অঞ্চলের বাইরেও হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর শক্তি পরিকাঠামোতেও হামলা বাড়িয়েছে ইরান। জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ইরানের দুটি ড্রোন কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে আঘাত হানে, যার ফলে আগুন লেগে যায়। এই শোধনাগারটি এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭৩০,০০০ ব্যারেল।

ইরান বরাবরই বলে আসছে যে তারা আত্মরক্ষার জন্যই পদক্ষেপ করছে। আরাঘচি বলেন, "ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।" আলাদাভাবে, ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাপানি জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিতে পারে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণের পথ। উত্তেজনার মাঝে এই ইঙ্গিতকে সীমিত নমনীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "আমরা জিতছি এবং ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ইরানের মিসাইল এবং ড্রোনের ভান্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তা ধ্বংস করা হবে।"

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বিশ্ব জুড়ে বিপর্যয়, ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা
Ajker Bangla News Live: Iran Missile - ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি চাওয়ার মধ্যেই ইরানের হামলা, গার্সিয়া দ্বীপে ৪০০০ কিমি পাল্লার মিসাইল