
নয়া দিল্লি: হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌ-বাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি এক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর। ইজরায়েলি সূত্রে এই হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌ-কৌশলে এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
তাংসিরি ছিলেন IRGC-র নৌ-শাখার প্রধান। হরমুজ প্রণালী আটকানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের রুট, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০-২৫% অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য হয়। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের নৌ-শক্তি দুর্বল হতে পারে এবং পারস্য উপসাগরে তাদের কৌশলগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে একটি হামলায় তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলা IRGC-র নৌ-অভিযানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরান এখনও এই হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি, এবং ইজরায়েলও সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
তাংসিরির মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রাশ কি আলগা হয়ে যাবে? যদি সত্যিই ইরানের নৌ-কমান্ডার নিহত হয়ে থাকেন, তাহলে পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সুরক্ষার ওপর।
এই হত্যাকাণ্ড যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে একটি নতুন মোড় আনতে পারে। IRGC-র নেতৃত্বে এত বড় আঘাত লাগলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া, ভারত, সৌদি আরব এবং অন্যান্য শক্তি আমদানিকারক দেশগুলির সাপ্লাই লাইনও প্রভাবিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার নৌ-কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে এবং পারস্য উপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি আরও মজবুত করতে নতুন কমান্ডারদের নিয়োগ করতে পারে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শক্তি সরবরাহ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে। ইরান বা ইজরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলেই আমরা বিস্তারিত জানাব। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এই হামলা এবং পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।