দিল্লিতে কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকের পর চিন কড়া বার্তা দিয়েছে। বেজিং জানিয়েছে, তারা 'ছোট গোষ্ঠী' তৈরি করে সংঘাত বাধানোর বিরোধী। অন্যদিকে, কোয়াড মন্ত্রীরা পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

দিল্লিতে সম্প্রতি কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠক হয়ে গেল। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান আর আমেরিকার বিদেশমন্ত্রীরা এই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, এমন কোনও একতরফা বা জোরজুলুমমূলক পদক্ষেপের আমরা তীব্র বিরোধী।"

তাঁরা আরও বলেন, "সমুদ্রে সম্পদ উত্তোলনে বাধা দেওয়া, জাহাজ ও বিমান চলাচলে বারবার বাধা সৃষ্টি করা, এবং বিশেষ করে সামরিক বিমান, উপকূলরক্ষী ও নৌবাহিনীর জাহাজের বিপজ্জনক মহড়া নিয়ে আমরা চিন্তিত। ওয়াটার ক্যানন ও ফ্লেয়ারের বিপজ্জনক ব্যবহার এবং জাহাজে ধাক্কা দেওয়া বা পথ আটকানোর মতো ঘটনা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। বিতর্কিত এলাকায় সামরিকীকরণ নিয়েও আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে।"

কোয়াড মন্ত্রীদের এই যৌথ বিবৃতির পরেই মুখ খুলেছে চিন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং সাফ জানিয়েছেন, বেজিং কোনও "ছোট গোষ্ঠী" বা "গোষ্ঠীগত সংঘাত" তৈরির বিরোধী।

এক সাংবাদিক বৈঠকে মাও নিং বলেন, "কোয়াড নিয়ে চিন আগেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা হওয়া উচিত আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য। এটা কোনও তৃতীয় পক্ষকে নিশানা করে হওয়া উচিত নয়। আমরা নির্দিষ্ট কিছু দেশকে নিয়ে 'ছোট গোষ্ঠী' তৈরি এবং গোষ্ঠীগত সংঘাতের বিরোধিতা করি।"

কোয়াড বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নাগরাজ নাইডু জানান, কোয়াড বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নমূলক ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।

তিনি বলেন, "কোয়াডের অস্তিত্ব কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের উদ্বেগের কারণে নয়। কোয়াড ২০০৪ সাল থেকে কাজ করছে। এটা এখন ২০২৬ সাল, মানে কোয়াড অনেকদিন ধরেই সক্রিয়।"

নাইডু জোর দিয়ে বলেন, কোয়াডের মূল লক্ষ্য বরাবরই বাস্তবসম্মত সহযোগিতা। কোভিড মহামারীর সময় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা সবসময় বলি, কোয়াডের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হল বাস্তবসম্মত প্রকল্প রূপায়ণ করা। কোভিড মহামারীর সময় কোয়াড একজোট হয়েছিল এবং মহামারী মোকাবিলায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।"

তিনি আরও যোগ করেন যে কোয়াডের উন্নয়নমূলক কাজ শুধু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ব আফ্রিকায় অফ-গ্রিড সোলার প্রকল্প এবং ফিজিতে নতুন উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। নাইডু বলেন, "ভারত কোয়াড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পূর্ব আফ্রিকা জুড়ে অফ-গ্রিড সোলার প্রকল্প পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা ফিজিতেও প্রকল্প করছি। তাই আমার মনে হয় না যে কোয়াডকে সবসময় একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকে দেখানোর চেষ্টা করা উচিত।"

কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ফিজির বন্দর পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের উন্নয়নে সে দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে অক্টোবর ২০২৫-এ ভারতে অনুষ্ঠিত 'কোয়াড পোর্টস অফ দ্য ফিউচার পার্টনারশিপ কনফারেন্স'-এর পর।

নাগরাজ নাইডু শেষে বলেন যে কোয়াডের সমস্ত কার্যকলাপ স্বচ্ছ। এর সব সরকারি নথি ও ফ্যাক্ট শিট প্রকাশ্যে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, "আপনি যদি দেখেন আমরা কী করি, কোয়াডের কার্যকলাপ সম্পর্কে সবসময় জানানো হয়, আমাদের সব নথি জনসমক্ষে উপলব্ধ। এবং আমরা যে ধরনের নথি প্রকাশ করছি, তাতে আমরা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়াচ্ছি।"

ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াড গোষ্ঠী সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়িয়েছে।