
Israel Warned Lebanon: ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইজরায়েলি সেনা এবার লেবাননে ঢুকতে শুরু করেছে। ইজরায়েলি আর্মি লেবাননের ৫৯টি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, লেবানন-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন হেজবোল্লা প্রায়ই ইজরায়েলের ওপর হামলা চালায়। তারই পাল্টা জবাব দিতে এবার বড়সড় অভিযানে নামছে ইজরায়েল।
UNHCR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েল এবং হেজবোল্লার মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে অন্তত ৩০,০০০ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন। সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বহু মানুষ নিজেদের গাড়িতে বা রাস্তার ধারে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে এখনও ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে রয়েছেন এবং নিরাপদ জায়গায় পৌঁছতে পারেননি।
ইজরায়েল টানা দ্বিতীয় দিন লেবাননের উগ্রপন্থী সংগঠন হেজবোল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সোমবারের হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে খবর। হেজবোল্লাকে ইরান-সমর্থক সংগঠন হিসেবেই দেখা হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর এই সংগঠনটি ইজরায়েলের হাইফা শহরের কাছে একটি সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছিল।
ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ দিনে ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ১৫৩টি শহরকে নিশানা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে যে, ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ অভিযানে মোট ৫০৪টি জায়গায় ১,০৩৯টি হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, কাতার জানিয়েছে যে তাদের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রায় ৮,০০০ মানুষ ট্রানজিটে আটকে পড়েছেন। এই ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ইরান এখনও পর্যন্ত তাদের দেশের দিকে ১৮৬টি মিসাইল এবং ৮১২টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৭৫৫টিকে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বেশিরভাগ হামলাকেই ব্যর্থ করে দিয়েছে। ১৮৬টি মিসাইলের মধ্যে ১৭২টিকে আটকে ধ্বংস করা হয়, আর ১৩টি মিসাইল সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য সবরকম জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।