
ইরানে আবার আক্রমণ করেছে ইজরায়েল। এটিই প্রথম ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানে সরাসরি আক্রমণ চালাল আমেরিকাও। তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শনিবার সকালে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীও তার নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে, সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করার জন্য সাইরেন বাজিয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ইজরায়েল সরকার। ইজরায়েলি পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ ঘোষণা করেছেন যে দেশের আকাশসীমা অসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজ বন্ধ, জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইরানি মিডিয়া এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে কমপক্ষে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহৌরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে, ইরানি কর্মকর্তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ করেননি। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে আজ আরেকটি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ইরানকে খুব কঠিন এবং "খুব বিপজ্জনক হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। এদিকে, শুক্রবার মার্কিন বিদেশ দফতর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে ইজরায়েল থেকে অপ্রয়োজনীয় দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়া ইতিমধ্যেই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তেহরানে বিস্ফোরণের খবর, ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। বিশ্ব এখন ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং সামনের কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।