হরমুজ প্রণালী কি সত্যি বন্ধ হয়ে গেল? বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে কি বড়সড় সংকট তৈরি হতে চলেছে? আমেরিকা-ইরান সংঘাত কি এবার সরাসরি যুদ্ধে পরিণত হবে? ২৪ জন ভারতীয় ক্রু সহ ট্যাঙ্কারে হামলার পর নিখোঁজ ৩ ভারতীয় ঠিক কোথায়?
Strait of Hormuz Closure: আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে চলা উত্তেজনা এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। বুধবার মার্কিন সেনা ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়, যার জেরে কেঁপে ওঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোও এই খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, কিশ আইল্যান্ড এবং বন্দর আব্বাসের মতো প্রধান এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণে আকাশ কেঁপে ওঠে। এই হামলার পর দুই দেশ এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


হরমুজ প্রণালী সিল... সব জাহাজ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!
আমেরিকার এই নতুন ও আগ্রাসী হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যা গোটা বিশ্বের শ্বাসরুদ্ধ করে দিয়েছে। IRGC আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) সব ধরনের জাহাজের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


ইরান খোলাখুলি হুমকি দিয়ে বলেছে: "এখন এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোনও জাহাজকে ছাড়া হবে না, সোজা নিশানা করে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।" যদিও, আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলছে যে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখনও जारी আছে, কিন্তু ইরানের দাবি, সেখানকার নিরাপত্তা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে।
সমুদ্রে আতঙ্ক: মার্কিন মিসাইলের শিকার ভারতীয় ক্রু!
এই ভয়ঙ্কর সংঘাতের সবচেয়ে বেদনাদায়ক আঁচ এসে পড়েছে ভারতের উপরেও। বুধবার মার্কিন সেনা হরমুজ প্রণালীর কাছে 'সেত্তেবেল্লো' (Settebello) নামের একটি তেল ট্যাঙ্কারে মারাত্মক মিসাইল হামলা চালায়। মার্কিন অবরোধ ভাঙার অভিযোগে চালানো এই হামলায় জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায়। এই ট্যাঙ্কারে মোট ২৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। যদিও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২১ জন ভারতীয়কে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে, কিন্তু ৩ জন ভারতীয় নাবিক এখনও সমুদ্রের মাঝে নিখোঁজ। এই ঘটনায় ভারত সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং নয়াদিল্লি এর বিরুদ্ধে কড়া আপত্তি জানিয়েছে।

ট্রাম্পের 'টোটাল ভিক্টরি'-র হুঙ্কার বনাম ইজরায়েলের মহাপরিকল্পনা
- এই বারুদের স্তূপের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজ সামনে এসেছে। ট্রাম্প একটি রিপাবলিকান র্যালিতে হুঙ্কার দিয়ে দাবি করেছেন:
- আমেরিকা এই যুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে ইরানের উপর "টোটাল ভিক্টরি" (সম্পূর্ণ জয়) ঘোষণা করবে।
- ট্রাম্পের দাবি, এই জয়ের পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম হু হু করে কমে যাবে।
- ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, আমেরিকার নৌ-অবরোধ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অবরোধ, যা একটি ইস্পাতের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে, ইজরায়েলও এই জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলেছে। ইজরায়েলি সেনাপ্রধান আইল জামির স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান শুধুমাত্র একটি শুরু ছিল; প্রয়োজন হলে, ইজরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সংকট কি পরমাণু ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে?
উত্তেজনা শুধু সীমান্তে নয়, কথার লড়াইয়েও চরমে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি ভয়ঙ্কর আশঙ্কার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "যদি আজ ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকত, তাহলে ইজরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য চিরতরে শেষ হয়ে যেত।" ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনায় দেরি করার জন্য তেহরানকে এখন চড়া মূল্য চোকাতে হবে। আপাতত, হরমোজগান প্রদেশের কারগান শহরে মার্কিন হামলায় স্থানীয় নাগরিকরা আহত হয়েছেন এবং জল-বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবিক সংকটও দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা এই ভেবে আতঙ্কিত যে, যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের উপর হামলা শুরু হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।


