
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের এক মন্তব্যের জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইজরায়েল। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার প্রস্তাবকে একরকম উড়িয়ে দিয়ে তেল আভিভ সাফ জানিয়েছে, যারা ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়, সেই 'জঙ্গিদের' বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষা করবে।
ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিওন সার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইহুদি রাষ্ট্রকে 'ক্যান্সারের মতো' বলাটা আসলে ইজরায়েলকে ধ্বংস করারই ডাক।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ তিনি লিখেছেন, "যে সরকার শান্তি আলোচনার কথা বলছে, তাদের তরফ থেকে এমন blatant antisemitic (ইহুদি-বিদ্বেষী) মন্তব্যকে ইজরায়েল খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইহুদি রাষ্ট্রকে ক্যান্সার বলা মানে তাকে ধ্বংস করার ডাক দেওয়া। যারা আমাদের ধ্বংস করতে চায়, সেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ইজরায়েল আত্মরক্ষা করবেই।"
ঘটনার সূত্রপাত খোয়াজা আসিফের একটি পোস্ট ঘিরে। তিনি X-এ লেখেন, ইজরায়েল "মানবতার জন্য একটি অভিশাপ এবং শয়তান"। তাঁর অভিযোগ, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে "গণহত্যা" চালাচ্ছে ইজরায়েল। তিনি বলেন, "নিষ্পাপ নাগরিকদের হত্যা করছে ইজরায়েল। প্রথমে গাজা, তারপর ইরান আর এখন লেবানন—রক্তপাত বেড়েই চলেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি প্রার্থনা করি, ইউরোপীয় ইহুদিদের থেকে মুক্তি পেতে যারা প্যালেস্টাইনের মাটিতে এই ক্যান্সার রাষ্ট্র তৈরি করেছিল, তারা যেন নরকে যায়।"
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই আরও জটিলতার মুখে পড়েছে। এর আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারায় অস্বস্তিতে পড়েছিল পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, লেবাননও এই শান্তি চুক্তির অংশ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু—দু'জনেই সেই দাবি খারিজ করে দেন।
জেরুজালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালক (এবং সিইও) ও যোগাযোগ পরিচালক সাগিব স্টেইনবার্গ সতর্ক করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে; একইসঙ্গে তিনি ইসলামাবাদে চলমান আলোচনা বৈঠকের ফলাফল নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। এএনআই (ANI)-এর সাথে আলাপকালে সাগিব স্টেইনবার্গ বলেন, "ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিবেচনা করলে মনে হবে, বর্তমানে সবকিছুই শান্ত রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে কী ঘটছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কী আলোচনা চলছে—সেসবের দিকে তাকালে আমরা নিশ্চিত নই যে, শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কথোপকথনগুলোর ফলাফল কী হতে যাচ্ছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত হলেও, যেকোনো মুহূর্তে আবারও সবকিছু উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।"
এদিকে, নেতানিয়াহু আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে "লেবাননে কোনও যুদ্ধবিরতি হচ্ছে না"। তিনি হেজবোল্লার বিরুদ্ধে "পূর্ণ শক্তি" দিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "আমি আপনাদের জানাতে চাই: লেবাননে কোনও যুদ্ধবিরতি নেই। আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে হেজবোল্লার উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আপনাদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমরা থামব না।"