
ইরান বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের নিউক্লিয়ার এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম নিয়ে কোনওরকম আলোচনা হবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ISNA জানিয়েছে, তেহরান আবারও বলেছে যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কোনও আপস তারা করবে না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত পুরোপুরি শেষ করার চেষ্টার মধ্যেই ইরান এই কড়া অবস্থান নিল। যদিও ইরান যে ১০টি বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছে, তার মধ্য়েও এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ISNA-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মহম্মদ এসলামি বলেছেন, বাইরের চাপে (আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ইঙ্গিত করে) ইরানের এনরিচমেন্ট কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এনরিচমেন্ট আমাদের অধিকার এবং এটা নিয়ে কোনও দর কষাকষি হবে না।" তিনি আরও বলেন, কোনও শক্তিই ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরাতে পারবে না।
এসলামির কথায়, "শত্রুরা এনরিচমেন্ট সীমিত করার যে দাবি করছে, তা পূরণ হবে না... আমাদের এই অধিকার নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না... কোনও আইন বা ব্যক্তি আমাদের পথে বাধা হতে পারবে না।"
পশ্চিমী দেশগুলো তেহরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ কমানোর জন্য যে ডাক দিয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে এসলামি বলেন, এই দাবিগুলো অবাস্তব।
ISNA তাঁকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, "ইরানের এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম সীমিত করার জন্য শত্রুদের দাবিগুলো আসলে দিবাস্বপ্ন, যা তাদের সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে।"
ইরানের এই কঠোর মনোভাব এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরান এবং আমেরিকা-ইজরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত থামাতে দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েন
প্রস্তাবিত চুক্তির অংশ হিসেবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সহ পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরান বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। এর আগে বুধবার, ট্রাম্প দাবি করেন যে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান নাকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থামাতে রাজি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে ইরানের উপর থেকে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানে একটি "খুব ফলপ্রসূ শাসন পরিবর্তন" হয়েছে এবং এর পরে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে " ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে"।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে একটি বৃহত্তর চুক্তির বেশ কয়েকটি দিক ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, যা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর পোস্টে লেখা ছিল, "আমেরিকা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যেখানে আমরা একটি খুব ফলপ্রসূ শাসন পরিবর্তন হতে দেখেছি! ইউরেনিয়ামের কোনও সমৃদ্ধকরণ হবে না, এবং আমেরিকা ইরানের সঙ্গে কাজ করে সমস্ত গভীরভাবে কবর দেওয়া (বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে) পারমাণবিক "ধুলো" খুঁড়ে বের করে ফেলবে। এটি এখন স্পেস ফোর্সের অত্যন্ত সঠিক স্যাটেলাইট নজরদারির অধীনে রয়েছে এবং ছিল! হামলার তারিখ থেকে কিছুই স্পর্শ করা হয়নি। আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলছি এবং বলব। ১৫টি পয়েন্টের মধ্যে অনেকগুলোতেই ইতিমধ্যেই সম্মতি হয়ে গেছে।"