ভারতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জঙ্গিঘাঁটি পুনর্নির্মাণ জইশের, মিলেছে পাকিস্তানি সরকারের ফান্ডিং

Published : Aug 23, 2026, 03:43 PM IST
Jaish e Mohammed Markaz Subhan Allah headquarters in Pakistan Bahawalpur reconstructed

সংক্ষিপ্ত

ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'-এর হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশ-এ-মহম্মদের (JeM) 'মারকাজ সুবহান আল্লাহ' সদর দফতর। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত সদর দফতর মেতামত করে ফেলা হয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি নতুন মার্বেল পাথর, নতুন রং ও প্লাস্টার দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলোও পুনরায় তৈরি করা হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'-এর হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশ-এ-মহম্মদের (JeM) 'মারকাজ সুবহান আল্লাহ' সদর দফতর। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত সদর দফতর মেতামত করে ফেলা হয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি নতুন মার্বেল পাথর, নতুন রং ও প্লাস্টার দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলোও পুনরায় তৈরি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল হলের মেঝেতে আঘাতের ফলে সৃষ্ট গর্তগুলো ভরাট করে কাঠামোটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। যার ফলে ভারতীয় হামলার চিহ্নগুলো কার্যত আড়াল হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই সংস্কার কাজের জন্য পাকিস্তানের সরকার জইশ-এ-মহম্মদকে নগদ কিস্তিতে ২৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি (PKR) দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি রুপি শুধুমাত্র সেন্ট্রাল হলটি পুনর্নির্মাণের পেছনেই ব্যয় করা হয়েছে। মূল কমপ্লেক্সের সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা, যার মধ্যে 'মাদ্রাসা আল-সাবির' এবং জইশ কমান্ডারদের ব্যবহৃত আবাসিক কোয়ার্টারও অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে এবং ওই স্থানে নতুন নির্মাণকাজ চলছে।

'অপারেশন সিঁদুর'-এর ১৫ মাস পর এই পুনর্নির্মাণের বিষয়টি সামনে এল। উল্লেখ্য, ৭ মে ২০২৫ তারিখে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অবস্থিত সন্ত্রাসবাদী কাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালিয়েছিল। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতেই ওই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে স্যাটেলাইট চিত্রে ওই চত্বরে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন দেখা গিয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলোর মেরামতের কাজ চলতে দেখা গিয়েছিল। মে মাসে স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলোকে গাঢ় রঙের দেখাচ্ছিল, যা নতুন সিমেন্টের কাজের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি কমপ্লেক্স থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দৃশ্যগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে সংস্কারের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামো সংস্কার করা হয়েছে এবং কমপ্লেক্সটিকে আবারও সচল বলে মনে হচ্ছে। জইশ-এ-মহম্মদ একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও এই পুনর্নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB) থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত 'মারকাজ সুবহান আল্লাহ' জইশ-এ-মহম্মদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা তাদের ক্যাডারদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং মতাদর্শগত দীক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। ১৮ একর আয়তনের এই কমপ্লেক্সটি—যা 'উসমান-ও-আলি ক্যাম্পাস' নামেও পরিচিত—সেখানে একটি মসজিদ ও অন্যান্য সুবিধাও ছিল।

ভারতের বিরুদ্ধে জেইএম (JeM)-এর কার্যকলাপের সঙ্গে বাহাওয়ালপুরের এই ক্যাম্পটি দীর্ঘকাল ধরে জড়িত। ২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা আত্মঘাতী বোমা হামলার মতো বেশ কয়েকটি বড় হামলার সঙ্গে এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটির নাম জড়িয়ে আছে। ধারণা করা হয়, পুলওয়ামা হামলার পরিকল্পনাও এই 'সুবহান আল্লাহ' ক্যাম্পেই করা হয়েছিল।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালী কি আমেরিকার? ট্রাম্পের দাবিতে ফুঁসছে ইরান
Earthquake in Japan: জাপানে আবার ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প! যার প্রভাব টোকিও শহরকে কাঁপিয়ে দেয়