Khamenei Warns: আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই জানালেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মরিয়া হয়ে এই সমঝোতায় এসেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতের মুখোমুখি আলোচনা মানে শত্রুর দাবি মেনে নেওয়া নয়।
চুক্তি সইয়ের পরই বিস্ফোরক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা
আমেরিকার সঙ্গে নতুন চুক্তি (MoU) সই হওয়ার পরেই মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি 'মরিয়া' হয়ে এই চুক্তি করতে 'সব ধরনের চাপ' তৈরি করেছিলেন।
210
এত দিন মুখে কুলুপ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হওয়ার পরও তেমনভাবে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি মোজতাবা আলি খামেনেই। তবে আমেরিকার যে ইরান মাথানত করবে না তা একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প যখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিক্রিয়া দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন রীতিমত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন মোজতাবা আলি খামেনেই। কিন্তু নতুন করে চুক্তি সই হওয়ার পরেই বোমা ফাটালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
310
ইরানের স্বার্থই প্রধান
মোজতাবা আলি খামেনেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের মানুষের অধিকার এবং 'রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'-এর স্বার্থ রক্ষা করার শর্তেই তেহরান এই চুক্তিতে রাজি হয়েছে। তাঁর কথায় ইরানের অধিকাংশ শর্তই মেনে নিয়েছে আমেরিকা।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ১৪ দফার এই চুক্তি সই হওয়ার পর দেশের মানুষের উদ্দেশে খামেনেই বলেন, ইরানের আধিকারিকরা এই আলোচনার জন্য অনেক খেটেছেন। কিন্তু উদ্যোগটা আসলে ওয়াশিংটনের তরফ থেকেই বেশি ছিল। ইরান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঠিকই কিন্তু চুক্তি নিয়ে সবথেকে বেশি আগ্রহী ছিল আমেরিকা। ইরানের কাছে অগ্রাধিকার ছিল দেশের স্বার্থরক্ষা।
510
চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প
খামেনেইয়ের কথায়, "আপনারা যেমনটা জানেন, ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র সই হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছতে আমাদের আধিকারিকরা অনেক চেষ্টা করেছেন। তবে সত্যিটা হলো, আমেরিকান প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে সবরকমভাবে চাপ দিয়ে এই চুক্তি করিয়েছেন।"
610
চুক্তি নিয়ে খামেনেইর মতামত
এই চুক্তির কাঠামোকে সমর্থন করলেও খামেনেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে মুখোমুখি আলোচনা হলেও আমেরিকার শর্ত মেনে নেওয়া হবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। তিনি বলেন, "এটা স্পষ্ট যে ভবিষ্যতে মুখোমুখি আলোচনা মানে শত্রুর অবস্থান মেনে নেওয়া নয়।"
710
চুক্তি নিয়ে বার্তা
সর্বোচ্চ নেতা আরও জানান, এই চুক্তি নিয়ে প্রথমে তাঁর অন্য মত ছিল। কিন্তু পরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যরা তাঁকে ভরসা দেন। এরপরেই তিনি অনুমতি দেন।
খামেনেই বলেন, "নীতিগতভাবে আমার অন্য মত ছিল। কিন্তু দেশের প্রেসিডেন্ট, যিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধানও, তিনি এবং বাকি সদস্যরা ইরানের মানুষের ও রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁরা এর দায়ভার নিয়েছেন, তাই আমি অনুমতি দিয়েছি।"
810
ইরান মাথা নত করবে না
খামেনেই আরও বলেন যে, আমেরিকার পক্ষ থেকে যদি অতিরিক্ত কোনও দাবি করা হয়, তাহলেও ইরানের প্রতিনিধিরা মাথা নত করবেন না বলে তাঁকে কথা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, "তিনি (প্রেসিডেন্ট) এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আমেরিকানরা যদি বাড়াবাড়ি দাবি করে, তাহলে তারা তা মানবে না।"
910
ইরানের রাষ্ট্রদূতের বার্তা
এর আগে, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি এই চুক্তিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' বলে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর মতে, সব পক্ষকে সততার সঙ্গে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে।
1010
ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান ভার্চুয়ালি চুক্তিতে সই করেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হয়েছে, উত্তেজনা কমানোর একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।