
Sahara Desert News: ৪৫০ কোটি বছর আগে চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়েছিল বিশাল এক উল্কা। চাঁদের বায়ুমণ্ডল নেই, তাই স্পিডে কোনো বাধা পায়নি। বিস্ফোরণে চাঁদের সাদা অংশের ক্রাস্ট ছিটকে বেরিয়ে যায় মহাকাশে। সেই টুকরোগুলোর একটা লাখ লাখ বছর ধরে সূর্যকে চক্কর কেটে শেষমেশ পৃথিবীর টানে ধরা দেয়। বায়ুমণ্ডলে ঢুকে আগুনের গোলা হয়ে জ্বলে, যেটুকু বাঁচে সেটা আফ্রিকার সাহারায় মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০২০ সালে নোম্যাডরা কুড়িয়ে পায় ২৫২ গ্রামের কালো পাথরটা। নাম দেওয়া হয় NWA 12691। ল্যাবে কেটে দেখা গেল এটা সাধারণ পাথর না। এর বয়স ৪.৪৩ বিলিয়ন বছর। চাঁদের জন্ম ৪.৫১ বিলিয়ন বছর আগে। মানে চাঁদ তৈরি হওয়ার মাত্র ৮ কোটি বছরের মধ্যেই এই পাথর জমাট বেঁধেছে। তুলনায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পাথরের বয়স ৪.০৩ বিলিয়ন বছর। Apollo মিশন চাঁদের “মারিয়া” এলাকা থেকে স্যাম্পল এনেছিল। কিন্তু NWA 12691 এসেছে “হাইল্যান্ড” থেকে - চাঁদের উজ্জ্বল সাদা অংশটা যেটা দিয়ে তৈরি। Apollo ওখানে যায়নি। তাই এই পাথরটা ফ্রি-তে পাওয়া স্যাম্পল রিটার্ন মিশন।
বয়স মাত্র ১০-২০ কোটি বছর। ভূপৃষ্ঠ টগবগ করে ফুটছে, আগ্নেয়গিরি অগুনতি। কিন্তু সমুদ্র তৈরি হয়ে গেছে। সেই সমুদ্রেই কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস মিশে প্রথম RNA-র মতো অণু তৈরি হচ্ছে। মানে প্রাণ “আসি আসি” করছে। NWA 12691 সেই সময়ের সাক্ষী। এই পাথর বিশ্লেষণ করে দুটো জিনিস পরিষ্কার হল। এক, চাঁদ জন্মের পর পুরোটা গলিত লাভার সমুদ্র ছিল। ঠান্ডা হয়ে হালকা ফেল্ডস্পার উপরে ভেসে হাইল্যান্ড বানায়। এই পাথর সেই আদি সর-এর টুকরো। দুই, চাঁদ আর পৃথিবীর অক্সিজেন আইসোটোপ হুবহু এক। তার মানে “জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট থিয়োরি” সত্যি - মঙ্গল গ্রহের সাইজের একটা বস্তু পৃথিবীতে ধাক্কা মেরেছিল, তারই ছিটকে যাওয়া অংশ জুড়ে চাঁদ তৈরি। দামের কথা বললে মাথা ঘুরে যাবে। পৃথিবীতে মাত্র ৬০০ কেজি চাঁদের পাথর আছে। Apollo এনেছিল ৩৮২ কেজি, বাকিটা সাহারা-অ্যান্টার্কটিকা থেকে কুড়ানো। NWA 12691 নিলামে উঠলে প্রতি গ্রাম ২৫০০ ডলার, মানে ২৫২ গ্রাম = প্রায় ৫ কোটি টাকা। বাইরেটা বায়ুমণ্ডলে পুড়ে কালো কাচের মতো “ফিউশন ক্রাস্ট” হয়েছে। ভিতরটা সাদা ফেল্ডস্পার। সাধারণ পাথরের থেকে ভারী, হালকা চুম্বকে টানে।
পৃথিবী থেকে একাধিক বার চাঁদে পাড়ি দিয়েছে মানুষ। নাসার অ্যাপোলো অভিযান, রাশিয়ার লুনা অভিযান কিংবা চিনের চ্যাং-ই অভিযানে বহু নমুনা চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু সেগুলি চাঁদের নির্দিষ্ট অংশ থেকে সংগৃহীত। আফ্রিকার পাথরখণ্ড আসতে পারে এমন কোনও অজানা অংশ থেকে, যেখানে এর আগে পৃথিবীর কোনও মহাকাশযান পৌঁছয়নি। তাই বিজ্ঞানীদের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ক্যারোলিনদের গবেষণার পর সেই গুরুত্ব আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।