'ইসলামিকরণ' বা ইসলামি প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ডেনমার্ক দেশজুড়ে ইসলামি প্রার্থনার আহ্বান অর্থাৎ আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা পুনরায় সামনে এনেছে। দেশটির কট্টরপন্থী অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশের কিছু এলাকা এখন অনেকটা ইসলামাবাদের উপকণ্ঠের মতো মনে হচ্ছে।
'ইসলামিকরণ' বা ইসলামি প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ডেনমার্ক দেশজুড়ে ইসলামি প্রার্থনার আহ্বান অর্থাৎ আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা পুনরায় সামনে এনেছে। দেশটির কট্টরপন্থী অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশের কিছু এলাকা এখন অনেকটা ইসলামাবাদের উপকণ্ঠের মতো মনে হচ্ছে। অস্বাভাবিক রকমের স্পষ্টভাষায় বোডস্কভ ডেনিশ বার্তা সংস্থা 'রিৎজাউ'-কে বলেন যে, ডেনমার্কে ক্রমশ বাড়তে থাকা ইসলামিকরণ জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম, যা তাদের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা দিয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের এই বামপন্থী নেতা বলেন, "ডেনমার্কের বাড়ির ছাদগুলোর উপর দিয়ে আজানের আহ্বান ভেসে আসা উচিত নয়।"

প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে ডেনমার্ক যখন ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে, ঠিক সেই সময়েই এই মন্তব্যগুলো সামনে এল। এর আগে চলতি বছরেই ডেনমার্ক ইসলামি পর্দা বা বোরকা নিষিদ্ধ করার আইন পাস করেছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রার্থনার কক্ষ বা প্রেয়ার রুম সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বোডস্কভ আরও বলেন, "ডেনমার্কের কোনও স্থান নেই। ডেনমার্কে চলাফেরার সময় আপনি যেন কোনওভাবেই এমন সন্দেহে না পড়েন যে আপনি ইসলামাবাদের কোনও উপকণ্ঠে এসে পড়েছেন।"
আজান নিষিদ্ধের বিষয়ে ডেনমার্কের উদ্যোগ
তবে এমন প্রস্তাব নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০২০ এবং ২০২৫ সালে ডেনমার্ক জনপরিসরে আজান নিষিদ্ধ করার আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই প্রস্তাব কখনই পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়ায়নি। তবে ইউরোপের এই দেশটির কিছু এলাকায় জনসমক্ষে আজানের উপর আগে থেকেই বিধিনিষেধ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোপেনহেগেনে কঠোর শব্দ-নিয়ন্ত্রণ বিধির কারণে মসজিদগুলো লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান প্রচার করতে পারে না। তবে কোনও ধর্মীয় প্রথাকে দেশজুড়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ডেনমার্কের সংবিধানে জনসমক্ষে উপাসনার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ মৌলিক সুরক্ষাব্যবস্থা লঙ্ঘনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বোডস্কভ জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশজুড়ে মুসলিমদের আজান নিষিদ্ধ করা সম্ভব কি না, সরকার প্রথমে তা খতিয়ে দেখবে। সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এই প্রস্তাবটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে টার্গেট করছে এবং সতর্ক করেছেন যে এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হতে পারে। বস্তুত, গত কয়েক বছর ধরে ডেনমার্কে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলাম-বিদ্বেষ একটি বিভাজন সৃষ্টিকারী বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা প্রায়শই অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বয়ান ও নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালে ডেনমার্কে ইসলাম-বিদ্বেষী কর্মীরা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনের বেশ কয়েকটি কপি পুড়িয়ে ফেলে ও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী চাপের মুখে ডেনমার্ক ধর্মীয় ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো নিষিদ্ধ করে একটি আইন প্রণয়ন করে। মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনের পর ফ্রেডেরিকসেন যখন তাঁর তৃতীয়বার ক্ষমতায় বসেন, তখন দেখার বিষয় হল ইসলামি প্রার্থনার আহ্বানের (আজান) উপর নিষেধাজ্ঞা তাঁর সরকার কীভাবে বাস্তবায়ন করে।
