
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় ইন্ডিয়া-নর্ডিক সামিটের আগে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ম্য়োল ফ্রস্টাডোটিরের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। এরপর অসলোতে এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। সেখানে নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে স্টকহোম এবং ২০২২ সালে কোপেনহেগেনের পর এটি তৃতীয় সম্মেলন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য নর্ডিক দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান যে ভারত ও নরওয়ে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে 'গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ'-এর পর্যায়ে উন্নীত করেছে। অসলোতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মোদী এই আলোচনাকে 'ফলপ্রসূ' বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "এই বৈঠকের অন্যতম বড় সাফল্য হল আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে ক্লিন এনার্জি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি এবং গ্রিন শিপিং-সহ আরও অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে দুই দেশ উদ্ভাবন, গবেষণা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভে নরওয়ের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মোদী বলেন, "নরওয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
সোমবার ভারত ও নরওয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নরওয়ে সফরের সময় জলবায়ু, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক এবং বিজ্ঞান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১২টি চুক্তি এবং উদ্যোগ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সফরের ফলে ভারত-নরওয়ে সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশই তাদের সম্পর্ককে 'গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ'-এ উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, ক্লিন এনার্জি এবং গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা একটি বিবৃতি অনুযায়ী, এই বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রও গৃহীত হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সার্কুলার ইকোনমি এবং নরওয়ের প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতার মেলবন্ধনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হল, নরওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়েছে। এর ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং একটি মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে সহযোগিতা আরও বাড়বে। এছাড়াও, ভারত ২০২৭ সালের 'নর-শিপিং' (Nor-Shipping 2027) ইভেন্টে একটি বিশেষ ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশ নেবে। এর লক্ষ্য হল ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, গ্রিন শিপিং টেকনোলজি এবং আধুনিক বন্দর পরিকাঠামোতে সহযোগিতা বাড়ানো।
মহাকাশ সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছে। এর মাধ্যমে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং গবেষণার জন্য দুই দেশের মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়বে এবং এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করা হবে।
এই সফরের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল 'ইন্ডিয়া-নরওয়ে ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ'-এর সূচনা। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিজিটাল পাবলিক গুডস এবং ওপেন ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মতো বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। আশা করা হচ্ছে, এই অংশীদারিত্ব ভারতের 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' মিশনকে সমর্থন করবে এবং নরওয়ের সহযোগিতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাঁচ দেশ সফরের অংশ হিসেবে এই চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সফরের পর তিনি তাঁর সফরের চতুর্থ ধাপে নরওয়ের অসলোতে পৌঁছান।