
ইরান তাদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) নতুন সেক্রেটারি হিসেবে অভিজ্ঞ সামরিক কমান্ডার ও স্ট্র্যাটেজিস্ট মোহাম্মদ বাখের জোলকাদারের নাম ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্টের অফিসের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের ডেপুটি সৈয়দ মেহেদি তাবাতাবাই এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে এই খবর জানান।
প্রেসিডেন্টের সরাসরি ডিক্রির মাধ্যমে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ মোজতবা খামেনেইয়ের সমর্থনে জোলকাদারকে এই শীর্ষ নিরাপত্তা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আলি লারিজানির জায়গায় এলেন, যিনি গত সপ্তাহে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন। লারিজানি ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে এই দায়িত্বে ছিলেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, দেশের সামরিক, নিরাপত্তা এবং বিচার বিভাগে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিলেন জোলকাদার। এর আগে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের ডেপুটি চিফ (বাসিজ অ্যাফেয়ার্স) ছিলেন এবং প্রায় এক দশক বিচার বিভাগেও উচ্চ পদে কাজ করেছেন। আকবর হাশেমি রাফসানজানির প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন জোলকাদার আট বছর IRGC জয়েন্ট স্টাফের প্রধান ছিলেন। এরপর আরও আট বছর IRGC-র ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।
এর আগে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৭৮তম পর্যায়ের হামলা চালানোর কথা ঘোষণা করে। IRGC দাবি করেছে, তারা ডিমোনা, তেল আভিভ, এইলাতের মতো ইজরায়েলের অত্যন্ত সংবেদনশীল টার্গেট এবং ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে IRGC জানিয়েছে, এই অপারেশনের সাম্প্রতিক পর্যায়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমর্থনের মধ্যে দিয়ে ইসলামিক রিপাবলিকের পক্ষে ‘মুষ্টিবদ্ধ’ র্যালি বের হয় এবং শত্রুর টার্গেটে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি ঝরানো হয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, অধিকৃত এইলাত বন্দর, ডিমোনা (যেখানে ইজরায়েলের পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে) এবং উত্তর তেল আভিভে ‘এমাদ’ ও মাল্টি-ওয়ারহেড ‘কদর’ মিসাইল সিস্টেম এবং অ্যাটাক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন IRGC ডিমোনায় হামলা চালাল।