
শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় বড়সড় দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, ইরান আর লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চলছে এবং এর মধ্যেই ইরানের ৭০ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেন, এই অভিযানে মার্কিন সেনা ও ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর মধ্যে সম্পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। তিনি ইজরায়েলের নাগরিকদেরও পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, "আমরা আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছি। আমরা ওদের কমান্ডারদের খতম করছি, ব্রিজ আর পরিকাঠামো উড়িয়ে দিচ্ছি। গত কয়েকদিনে বায়ুসেনা ইরানের ৭০ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে।"
এই ঘটনাকে "বিরাট সাফল্য" বলে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু জানান, এর ফলে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর তহবিলে টান পড়বে। শুধু তাই নয়, বিপুল পরিমাণে অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও হারাবে তারা। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় রেখে IDF এবং মার্কিন সেনা "ইরানকে গুঁড়িয়ে" দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাবে। তাঁর কথায়, ইরানের শাসনব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক দুর্বল, আর ইজরায়েল আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহু ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, "লেবাননে আমরা হিজবুল্লাহর ওপর জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছি। উত্তরের এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও বাড়াচ্ছি এবং তাকে মজবুত করছি।"
পাসওভার সেডার নাইটেও (ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসব) যেভাবে দেশের মানুষ হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশ মেনে চলেছেন, তার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “ঈশ্বরের কৃপায়, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব এবং আমাদের সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করব। শুভ পাসওভার।”
এদিকে, IDF এক্স হ্যান্ডেলে (আগের টুইটার) জানিয়েছে, লেবাননে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের মাল্টি-ডাইমেনশনাল ইউনিট হিজবুল্লাহর ৭৫টিরও বেশি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং ৪০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে খতম করেছে।
IDF-এর এক সিনিয়র আধিকারিক একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে তারা পিছু হটবে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই অভিযানের অগ্রগতির জন্য তারা ক্রমাগত কাজ করে চলেছে। পশ্চিম এশিয়ায় এই সংঘাত এখন দ্বিতীয় মাসে পড়েছে।