রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা? ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন কাঁটা

Published : Aug 07, 2026, 10:39 PM IST
রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা? ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন কাঁটা

সংক্ষিপ্ত

হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন বিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় প্রভাব ফেলবে কিনা, তা ঠিক করবেন দুই দেশের আলোচকরা। মার্কিন সেনেটে এই বিলটি পাশ হওয়ার পথে রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন বিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দুই দেশের আলোচকরাই। এএনআই-এর এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর কেভিন হ্যাসেট এই মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, "এই সিদ্ধান্ত আলোচকরাই নেবেন।"

নিষেধাজ্ঞা বিলের লক্ষ্য রাশিয়ার তেল ক্রেতারা

মার্কিন সেনেট একটি দ্বিদলীয় নিষেধাজ্ঞা বিল পাশের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল পাশ হলে ভারত ও চীনের মতো দেশ, যারা রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা, তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। এই বিলটির আনুষ্ঠানিক নাম 'Lindsey O Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026'। সেনেটররা ৮৬-১২ ভোটে বিলটি পাশ করার প্রাথমিক বাধা দূর করেছেন। আইন হিসেবে পাশ হলে, এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেই সব দেশ থেকে আমদানির ওপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেবে, যারা রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে তেল বা গ্যাস কেনে। তবে এই নিয়ম সরাসরি কার্যকর হবে না এবং এর ওপর আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত থাকবে। আইন হওয়ার আগে বিলটিকে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসেও পাশ হতে হবে।

ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য পেট্রোলিয়াম বিক্রি থেকে হওয়া আয় কমানোই এই বিলের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানকে প্রধান উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা

এই আইনি টানাপোড়েন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বৃহত্তর বাণিজ্য আলোচনা চলছে, যেখানে শুল্ক কাঠামো একটি প্রধান বিষয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভারতীয় রপ্তানির ওপর পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮% করা হবে। বিনিময়ে ভারত আমেরিকার থেকে আরও বেশি শক্তি সম্পদ ও প্রযুক্তি কিনবে। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট 'International Emergency Economic Powers Act' (IEEPA)-এর অধীনে এই পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ায় চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা আসে। এরপর প্রশাসনকে সাময়িকভাবে 'Section 122' কাঠামো গ্রহণ করতে হয়। বর্তমানে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত 'Section 301' কাঠামোর অধীনে বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্যের ওপর সাধারণ 'Most-Favoured-Nation' (MFN) হারের চেয়ে ১০% অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হয়।

এই পরিবর্তনশীল কাঠামো এবং অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, শুল্কের চাপ কমানো, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার জন্য একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। হ্যাসেট এর আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে "জটিল" বললেও একটি চুক্তির বিষয়ে তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছিলেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Satsang UK: যুক্তি বাদী ভাবনা এবং আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন, লন্ডনে সৎসঙ্গের আসর
গপ গপ করে পোকা গিলে খায়! ১৫০ বছর আগে চার্লস ডারউইনের অনুমান করা সেই আজব গাছের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা