
No Kings Day: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে প্রতিবাদ, ক্ষোভ চরমে পৌঁছে গিয়েছে। তার আরও একবার প্রমাণ হল। শনিবার ট্রাম্প বিরোধী 'নো কিংস ডে'প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশ মিলিয়ে ৮০ লক্ষাধিক মানুষ সামিল হলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, এর আগে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমেরিকায় এত মানুষ সামিল হননি। 'নো কিংস ডে' উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে দেখা গেল নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সরকারি হিসেবে জানা গিয়েছে, একদিনেই ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা, যুদ্ধনীতি, অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বেশ কয়েক মাস ধরে। ট্রাম্প মজা করে নিজেকে একবার কিং বলে অ্য়াখা দিয়েছিলেন, এই নো কিংস ডে কথাটা সেখান থেকেই এসেছে।
দেখুন ভিডিও
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি শহর ও ছোট শহরে এই ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকার প্রতিটি প্রদেশেই আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়। পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূল, দেশের সর্বত্রই মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, সান ফ্রান্সিসকো, সান ডিয়েগো, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস ও সেন্ট পল-সহ একাধিক বড় শহরে ব্যাপক জমায়েত হয়।
তবে এই বিক্ষোভ শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইংল্যান্ডের লন্ডন, ইজরায়েলের তেল আভিভ এবং স্কটল্যান্ডে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও বিভিন্ন জায়গার অংশগ্রহণের হিসেব এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের মহিলাদের যেখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, সেখানে এবারের বিক্ষোভ সেই রেকর্ডকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এটিকে আধুনিক আমেরিকার সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনগুলির মধ্যে একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেখুন ভিডিও
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মনে করা হচ্ছে, ১৭৭৬ সালে আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতারা যে গণতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজকের এই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই মূল্যবোধকেই আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই ব্যাপক বিক্ষোভ প্রমাণ করে, গণতন্ত্র রক্ষায় এখনও সক্রিয় ও সচেতন মার্কিন নাগরিকরা।