
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটি সেখানে ৩,৫০০-এরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনাবাহী যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' বর্তমানে এই অঞ্চলের অপারেশনাল বা কার্যক্ষেত্রে অবস্থান করছে। এদিকে, পেন্টাগন ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত স্থল সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। 'ইউএসএস ত্রিপোলি' হল একটি আধুনিক 'বিগ-ডেক' যুদ্ধজাহাজ, যা এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট ওঠা-নামায় সক্ষম। প্রায় দু সপ্তাহ আগে মোতায়েনের নির্দেশ পাওয়ার আগে জাহাজটি জাপানে অবস্থান করছিল। সান দিয়েগো থেকে 'ইউএসএস বক্সার' এবং নৌবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট-সহ অতিরিক্ত বাহিনীকেও এই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১,০০০-এরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। যা চলমান সামরিক অভিযানের ব্যাপকতাকেই তুলে ধরে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন স্থল সেনা মোতায়েন না করেই তাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি এও জোর দিয়ে বলেছেন যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইরান সৌদি আরবের 'প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি' লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হন। এদিকে, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী'-র ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত 'হুথি' গোষ্ঠীর এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইজরায়েল লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে এই গোষ্ঠীটি। তাদের যুদ্ধে জড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে—বিশেষ করে 'বাব-এল-মান্দেব প্রণালী'র নিরাপত্তা নিয়ে, যা সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বিমান চলাচলের পথগুলো ইতিমধ্যেই ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে থাকায় বিভিন্ন দেশ এখন বিকল্প পথের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিদের পক্ষ থেকে আরও হামলা চালানো হলে তা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামকে আরও অনেক উঁচুতে ঠেলে দিতে পারে।