যুদ্ধে জড়়াবে উত্তর কোরিয়া? হরমুজ উত্তেজনার মধ্যেই বিতর্কিত ক্লাস্টার ওয়ারহেড মিসাইল ছাড়লো কিম

Saborni Mitra   | ANI
Published : Apr 20, 2026, 08:49 AM IST
North Korea Confirms Tactical Missile Test with Cluster Warheads Under Kim Jong Uns Watch

সংক্ষিপ্ত

Kim Jong Un: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে আপগ্রেডেড ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা তদারকি করেছেন। সোমবার সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই মিসাইলগুলোতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত ছিল। 

উত্তর কোরিয়া সোমবার নিশ্চিত করেছে যে তারা ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত আপগ্রেডেড ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা করেছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে এই মহড়া দেখেন।

হাওয়াসংফো-১১ রা ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা

সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA)-র বরাত দিয়ে কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, রবিবার এই মহড়া চালানো হয়। মোট পাঁচটি "হাওয়াসংফো-১১ রা" সারফেস-টু-সারফেস ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে।

উত্তেজনা প্রতিবেশীদের মধ্যে

উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোর নজরেও আসে, যদিও উৎক্ষেপণের ধরন নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, মিসাইলগুলো ভূমি থেকে ছোড়া হয়েছে। কিন্তু জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, সিনপো অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি স্বল্প পাল্লার মিসাইল ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ হওয়ায় মিসাইলগুলো "সম্ভবত সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে"।

উত্তর কোরিয়ার জবাব

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের জবাবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল "ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইলে ব্যবহৃত ক্লাস্টার বোমা এবং ফ্র্যাগমেন্টেশন মাইন ওয়ারহেডের কার্যকারিতা ও শক্তি যাচাই করা।"

চলতি মাসের শুরুতে পিয়ংইয়ং আরও একটি অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। তখন তারা "হাওয়াসংফো-১১ কা ব্যালিস্টিক মিসাইল" পরীক্ষা করার কথা জানায়, যেটিতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ছিল। বারবার এই ধরনের পরীক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে, উত্তর কোরিয়া বিতর্কিত সাবমুনিশন ব্যবহার করে তাদের স্বল্প পাল্লার অস্ত্রের ভান্ডারকে আরও উন্নত করতে চাইছে।

কিম জং উনের দাবি

মহড়া পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশের বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। KCNA-র রিপোর্ট অনুযায়ী, কিম মনে করেন, "বিভিন্ন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেডের উন্নতি সেনাবাহিনীর আঘাত হানার ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।"

এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এই অস্ত্রগুলো একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়, যার অনেকগুলোই অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং পরে সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

বিতর্কিত ক্লাস্টার অস্ত্র

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া "ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি"-তে সই করেনি। এই চুক্তি অনুযায়ী, ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার, উৎপাদন, হস্তান্তর এবং মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ এই চুক্তিতে সই করলেও উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মতো কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এর বাইরে রয়েছে।

পিয়ংইয়ং-এর এই লাগাতার অস্ত্রের পরীক্ষা তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণের একটি বড় কৌশলের অংশ। ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এই প্রচেষ্টা আরও বেড়েছে।

সেই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর থেকে উত্তর কোরিয়া মাল্টি-ওয়ারহেড পারমাণবিক মিসাইল, হাইপারসনিক প্রজেক্টাইল এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিগুলো আয়ত্ত করার মূল উদ্দেশ্য হল ওয়াশিংটন এবং সিওলের তৈরি করা মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া এবং অকার্যকর করে তোলা।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US-Iran War: ইরানি জাহাজ দখল করে নিল মার্কিন সেনারা, পাল্টা ড্রোন হামলা চালানোর দাবি তেহরানের
Ceasefire Talks: ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্ব থামাতে পাকিস্তানে দৌড়ঝাঁপ, ট্রাম্পের তুরুপের তাস জামাই কুশনার