
ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হতে চলেছে। তার আগেই রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শান্তি আলোচনার জন্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে যাচ্ছেন ইরানের সঙ্গে কথা বলতে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত এই সপ্তাহেই পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।
রবিবার হোয়াইট হাউস থেকে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে ফোন করে ট্রাম্প বলেন, "স্টিভ আজ রাতেই ওখানে যাচ্ছে।" তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছবেন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনারও এই আলোচনায় অংশ নেবেন।
আজ ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাঝেই ইরানে "মধ্যপন্থী" এবং "পাগলদের" মধ্যে লড়াই চলছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে কুশনার এবং উইটকফ আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ রওনা দিচ্ছেন। ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, "যদি আমাদের করা চুক্তিটা ওরা না মানে, তাহলে আমি ওদের ব্রিজ আর পাওয়ার প্ল্যান্ট উড়িয়ে দেব। যদি ওরা এই চুক্তিতে সই না করে, তাহলে পুরো দেশটাকেই উড়িয়ে দেওয়া হবে।"
মার্কিন এই ব্রডকাস্টার আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, "আমরা ওদের ওপর এমনভাবে আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছি যা আগে কোনও দেশের ওপর করা হয়নি। কারণ ওদের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না।" ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরান ইতিমধ্যেই চুক্তির অনেক অংশে রাজি হয়েছে। এদিকে, আজ ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান "যদি চুক্তি না মানে" তাহলে তাদের শক্তি এবং পরিকাঠামোর ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হবে।
"ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালীতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে – এটা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন! অনেক গুলি একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজের দিকে ছোড়া হয়েছিল। এটা ঠিক কাজ হয়নি, তাই না? আমার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন – তাঁরা কাল সন্ধ্যায় ওখানে পৌঁছবেন, আলোচনার জন্য।"
হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি করেন, এই বন্ধের ফলে ইরানের প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যেখানে "আমেরিকার কোনও ক্ষতিই হচ্ছে না"। তিনি ইরানের জন্য একটি ন্যায্য চুক্তির প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি আর "ভালো মানুষ" থাকবেন না এবং আমেরিকা ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজগুলোতে হামলা চালাবে।
ট্রাম্প বলেন, "ইরান সম্প্রতি প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা অদ্ভুত, কারণ আমাদের অবরোধে তো এটা এমনিতেই বন্ধ। ওরা না জেনেই আমাদের সাহায্য করছে, আর এই বন্ধের ফলে ওরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার! আমেরিকার কিছুই ক্ষতি হচ্ছে না। আসলে, অনেক জাহাজ এখন আমেরিকা, টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কার দিকে যাচ্ছে মাল লোড করার জন্য। আমরা একটা খুব ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি, এবং আমি আশা করি ওরা এটা মেনে নেবে। কারণ যদি না নেয়, তাহলে আমেরিকা ইরানের প্রত্যেকটা পাওয়ার প্ল্যান্ট আর প্রত্যেকটা ব্রিজ উড়িয়ে দেবে। আর ভালো মানুষ সাজার দিন শেষ! ওরা দ্রুত নত হবে, সহজেই হবে। আর যদি ওরা চুক্তি না মানে, তাহলে যা করার দরকার, তা করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের হবে। যা গত ৪৭ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। ইরানের এই কিলিং মেশিন বন্ধ করার সময় এসে গেছে!"
এই দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। সিএনএন জানিয়েছে, ইরান এখনও এই আলোচনার বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। প্রথম দফার আলোচনা হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে আটকে গিয়েছিল।