
পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় দু'মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে, তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওমান। রবিবার ওমানের বিদেশ মন্ত্রক এই খবর জানিয়েছে।
মন্ত্রকের তরফে এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬-এ দুই দেশের উপ-বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে দু'দেশের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটা বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই যায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জলপথে "জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার সম্ভাব্য বিকল্পগুলো" নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন। এই প্রস্তাবগুলো আরও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্পুটনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরির খসড়া প্রোটোকল প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কাঠামো তৈরির জন্য আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
সাক্ষাৎকারে গরিবাবাদি বলেন, "এই প্রোটোকলের খসড়া তৈরির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তৈরি হয়ে গেলেই আমরা ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করব, যাতে আমরা একটি যৌথ প্রোটোকল তৈরি করতে পারি।" স্পুটনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক সম্মত ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে।
অন্যদিকে, আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাহরিনের পেশ করা একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোকে "প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা" নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বাহরিন এই সংঘাতের আবহে ইরানের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারাই বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের রুটে হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রাশিয়া ও চিন এই কৌশলগত জলপথ পুনরায় খোলার জন্য সরাসরি শক্তি প্রয়োগের ভাষার বিরোধিতা করার পর খসড়া প্রস্তাবটিতে বেশ কয়েকবার বদল আনা হয়েছে। (এএনআই)