
আমেরিকা এবার ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের সবচেয়ে মারাত্মক দূরপাল্লার মিসাইল মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে কম পাল্লার JASSM মিসাইলও রয়েছে, যার রেঞ্জ প্রায় ২৫০ মাইল। মোট মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইরানের জন্য রাখা হয়েছে। এটি একটি বড় পদক্ষেপ, কারণ এর ফলে আমেরিকা অন্য সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মিসাইলের ভান্ডার সীমিত করে ফেলছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই মিসাইল সংঘাতে ঠিক কী ঘটছে?
JASSM-ER অর্থাৎ 'জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল-এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ' ৬০০ মাইলেরও বেশি দূরত্বে উড়তে পারে। এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে এড়িয়ে নিজের লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে আমেরিকা ১,০০০-টিরও বেশি JASSM-ER মিসাইল ব্যবহার করেছে।
মার্চ মাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভান্ডার থেকে এই মিসাইলগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। যুদ্ধের আগে আমেরিকার কাছে ২,৩০০টি মিসাইল ছিল, যার মধ্যে এখন মাত্র ৪২৫টি বাকি আছে। এর মানে হল, আমেরিকার অন্য জায়গার ভান্ডার এখন সীমিত। এছাড়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৭৫টি মিসাইল আর ব্যবহারযোগ্য নয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন যে আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি ইরানকে "প্রস্তর যুগে" ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। যদিও এর প্রভাব সাধারণ নাগরিক, সেনাবাহিনী বা সরকারের ওপর কীভাবে পড়বে, তা স্পষ্ট নয়। এই মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধের তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানও আমেরিকার F-15E এবং A-10 স্ট্রাইক জেট ভূপাতিত করেছে। এছাড়া, ১২টিরও বেশি MQ-9 স্ট্রাইক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এখনও পর্যন্ত ১,৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় ৪,০০০ 'শাহেদ' ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে। এর মানে হল, আমেরিকার ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমকেও আরও বেশি বেগ পেতে হবে।
আমেরিকা B-52 এবং B-1B বোমারু বিমান দিয়ে হামলা আরও বাড়িয়েছে। এতে সেনাদের ওপর ঝুঁকি কমছে ঠিকই, কিন্তু চিন-এর মতো অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য রাখা অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়ছে। বিপুল পরিমাণে এই মিসাইল ব্যবহার ভবিষ্যতে আমেরিকার সামরিক ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
JASSM-ER এবং টমহক মিসাইলের ব্যবহার এখনও চলছে। বর্তমান উৎপাদন হার দেখলে, এই অস্ত্রের ভান্ডার পূরণ করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। Lockheed Martin Corp. ২০২৬ সালে ৩৯৬টি নতুন দূরপাল্লার মিসাইল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। যদি পুরো প্রোডাকশন লাইন JASSM-ER তৈরিতেই মনোনিবেশ করে, তাহলে এই সংখ্যা ৮৬০ পর্যন্ত বাড়তে পারে।