‘ওয়ান কিডনি ভিলেজ’ এমন এক গ্রাম যেখানে মানুষ একটি কিডনি নিয়েই বেঁচে থাকে

Published : Sep 19, 2026, 06:31 PM IST

‘ওয়ান কিডনি ভিলেজ’! নামটা শুনতে অবাক লাগলেও আফগানিস্তানে এমন একটি এলাকা রয়েছে, যেখানে বহু মানুষ একটি কিডনি নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন।

PREV
16

‘ওয়ান কিডনি ভিলেজ’! নামটা শুনতে অবাক লাগলেও আফগানিস্তানে এমন একটি এলাকা রয়েছে, যেখানে বহু মানুষ একটি কিডনি নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন। কোনও জটিল রোগ বা জন্মগত সমস্যা নয়, চরম দারিদ্র্য ও সংসার চালানোর তাগিদেই তাঁরা নিজেদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত শহরের উপকণ্ঠে রয়েছে সাইশানবা বাজার নামে একটি এলাকা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এলাকাটি ‘ওয়ান কিডনি ভিলেজ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কারণ, এখানকার বহু পরিবারের অন্তত একজন সদস্য নিজের কিডনি বিক্রি করেছেন।

26

জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য এবং কাজের অভাবে বহু মানুষ হেরাতের উপকণ্ঠে এসে বসবাস করছেন। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং সংসারের খরচ চালাতে অনেকে নিজের কিডনি বিক্রি করেছেন। এমনকি একটি পরিবারের পাঁচ ভাই গত চার বছরে প্রত্যেকেই একটি করে কিডনি বিক্রি করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

36

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে অঙ্গদান বা অঙ্গ বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুবই সীমিত। হেরাতের কয়েকটি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এক সার্জনের দাবি, কিডনি দাতার সম্মতিই মূল বিষয়। লিখিত সম্মতির পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিংও রাখা হয়। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে হেরাতে কয়েকশো কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে রোগী বা দাতা কোথা থেকে আসছেন কিংবা কীভাবে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় যাচাই করে না।

46

আফগানিস্তানে কিডনি বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। তালিবান ক্ষমতায় আসার আগেও সেখানে এই সমস্যা ছিল। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত শিবির এবং দরিদ্র বসতিগুলিতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে কিডনি বিক্রির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। কিডনি কিনতে আগ্রহী ব্যক্তিরাও সস্তায় অঙ্গ পাওয়ার আশায় এই এলাকাগুলিতে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গিয়েছে।

56

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে একটি কিডনি বিক্রি করে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ১,৫০০ ডলারের বিনিময়েও মানুষ কিডনি বিক্রি করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ওই প্রদেশের হাসপাতালগুলিতে প্রায় ২৫০টি সরকারি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ অনেক প্রতিস্থাপন সরকারি নথির বাইরে হয়।

66

এক চিকিৎসকের দাবি, হেরাতে কিডনি বিক্রেতাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের অনেকেই বাস্তুচ্যুত শিবির অথবা শহরের বস্তি এলাকায় বসবাস করেন। অর্থের প্রয়োজনেই তাঁরা নিজেদের অঙ্গ বিক্রির পথে যাচ্ছেন। আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং দারিদ্র্যের ভয়াবহতার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ‘ওয়ান কিডনি ভিলেজ’। যেখানে মানুষের কাছে নিজের শরীরের একটি অঙ্গও পরিবারের খাবার জোগাড়ের শেষ অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories