
মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (CRS) একটি প্রতিবেদন পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি সম্পর্কে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও জোরাল করেছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন হামলায় যুক্ত সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ে ভারতের দাবি আবারও স্বীকৃতি পেয়েছে এই মার্কিন রিপোর্টে। প্রতিবেদনটিতে ভারত ও কাশ্মীর-কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হরকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলামি, হরকাত-উল-মুজাহিদিন এবং হিজবুল মুজাহিদিন অন্যতম। এতে বলা হয়েছে যে, এই গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে তাদের জঙ্গি কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনও বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর (non-state actors) জন্য একাধারে কেন্দ্রস্থল এবং লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়ে গেছে। এদের অনেকেরই তৎপরতা ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু হয়েছে। বারবার সামরিক অভিযান এবং নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও এই নেটওয়ার্কগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত গোষ্ঠীগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব-কেন্দ্রিক, আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক, ভারত ও কাশ্মীর-কেন্দ্রিক, অভ্যন্তরীণ-কেন্দ্রিক এবং সাম্প্রদায়িক (বিশেষ করে শিয়া-বিরোধী) গোষ্ঠী। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত ১৫টি গোষ্ঠীর মধ্যে ১২টিই মার্কিন আইন অনুযায়ী 'বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' (Foreign Terrorist Organizations) হিসেবে তালিকাভুক্ত। এদের অধিকাংশেরই চালিকাশক্তি হল ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শ।
বিশ্ব-কেন্দ্রিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রতিবেদনটিতে আল-কায়েদা, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট এবং ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক গোষ্ঠীগুলোর তালিকায় রয়েছে তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্ক। অভ্যন্তরীণ-কেন্দ্রিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং জইশ আল-আদল। আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে সিপাহ-ই-সাহাবা পাকিস্তান এবং লস্কর-ই-ঝাঙ্গভি। এতে আরও বলা হয়েছে যে, বিমান হামলা এবং গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানসহ একাধিক বৃহৎ পরিসরের সামরিক আক্রমণ চালিয়েও এই গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তারা এখনও পাকিস্তানের ভূখণ্ডে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৩ সাল থেকে পাকিস্তান নিজেও সন্ত্রাসবাদের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি জঙ্গি হিংসায় সর্বাধিক প্রভাবিত দেশগুলির অন্যতম।